এক জননীর ক্রন্দন
"যে নিজেকে সবসময় শ্রেষ্ঠ মনে করে, সে কখনো প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি করতে পারে না।"-বুদ্ধ
২০০৯ থেকে ২০২৪ দীর্ঘ পনের বছরের শাসন ব্যবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রেষ্ঠত্ব বিদ্যমান ছিল সুশীল ও বুদ্ধিজীবী সমাজে, মিডিয়ায়, আমলা ও ব্যবসায়ী মহলে। জুলাই আন্দোলন চলাকালীন ব্যবসায়ী সমাজ যেভাবে তাঁর পাশে ছিলেন কিন্তু গত পাঁচ আগষ্টের পর চিত্র বদলে যায়। আজ তারাই হাসিনা স্বৈরাচার বলে স্লোগান দেন।
শেখ হাসিনা বলেছিলেন, " হাসিনা পালায় না।" দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁর কথা ও কাজে অসামঞ্জস্য ছিল। তিনি নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করতেন কিন্তু শ্রেষ্ঠত্বের স্বাদ পাননি কারণ তাঁর উদ্ধততা। তাইতো
মহাত্মা গান্ধীর মতে,অহংকার কখনো সত্যিকারের শক্তি দেয় না, বরং ধ্বংসের পথ দেখায়।
তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতার বড় অভাব ছিল বলেই তাঁর চারপাশে পরগাছা নামক সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী, মিডিয়ার সুবিধাবাদী, আমলা ও ব্যবসায়ী মহলের গুণগানে তিনি সর্বদা সিক্ত থাকতেন। পৃথিবীর কোনো সংসদে সরকার প্রধানের মনোরঞ্জনের জন্য গান হয়নি যেটা তাঁর সময়ে কোকিলকণ্ঠী স্বল্পশিক্ষিত শিল্পী মমতাজ বেগম করতেন। তিনি গুণগান ও তোষামোদি সম্মান পেতে এতটাই নিমগ্ন ছিলেন যে সত্যিকারের সম্মান কি তা বুঝার জ্ঞান হারিয়ে ফেলে প্রতিশোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে করতে তিনি নিজেই হিতাহিতজ্ঞান হয়ে জুলাই বিপ্লবের স্ফুলিঙ্গকে প্রজ্জ্বলিত করে নিজের শ্রেষ্ঠত্বর সমাধি রচনা করেন। তাইতো সক্রেটিসের ভাষায় বলতে হয় যে নিজের ওপর অহংকার করে, সে কখনো সত্যিকারের জ্ঞান অর্জন করতে পারে না।
©