কৌশলী খেলোয়াড়
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব রাজনীতির এক কৌশলী খেলোয়াড়। ইতিহাস ও বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই দেশ কখনোই চায় না বিশ্বে পূর্ণ শান্তি বা স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হোক। বরং বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ ও সংকট যত বেশি থাকবে, তত বেশি উপকৃত হয় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বিশেষ করে তাদের বিশাল সামরিক-শিল্প জটিলতাটি।
বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়া মানেই অস্ত্র সরবরাহের সুযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং অর্থনৈতিক আধিপত্য সুসংহত করার উপায়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ তার বড় উদাহরণ। ইউক্রেনকে বিপুল পরিমাণে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে যুক্তরাষ্ট্র শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, অর্থনৈতিকভাবে প্রচুর লাভবান হয়েছে। এই অস্ত্র সরবরাহের অধিকাংশই এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি অস্ত্র কোম্পানিগুলো থেকে।
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতেও একই কৌশল। যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের মিত্র এবং প্রতিনিয়ত তাকে সামরিক সহায়তা দিয়ে থাকে। ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্র থেকে আধুনিক যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোনসহ নানা সামরিক প্রযুক্তি কিনে থাকে যার মাধ্যমে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র কোম্পানিগুলোর বিশাল মুনাফা অর্জিত হয়।
এইভাবে যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত বৈদেশিক নীতিকে এমনভাবে বাস্তবায়ন করে যে, যেকোনো সংঘাতে সে সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়েও রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থনৈতিক লাভ উভয়ই নিশ্চিত করে নেয়। বিশ্বব্যাপী তার এই একচ্ছত্র আধিপত্য আসলে কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং যুদ্ধনির্ভর পুঁজিবাদেরই একটি বহিঃপ্রকাশ।
©