অবস্থান
জীবনের যেকোনো বিষয়ে অবস্থান বিবেচনায় চলা উচিত। পিনাকী ভট্টাচার্য ও ইলিয়াস হোসেন অকথ্য ভাষায় যেকোনো রাজনৈতিক দলকে সমালোচনা করতে পারেন, তবে তাঁরা এই কাজটি দেশের বাইরে থেকেই করতে পারছেন দেশের ভেতর থেকে তা সম্ভব হতো না।
দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়ংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. আজিজুল হক প্রিডেটরি জার্নাল এবং গবেষণার গুণগত মান নিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে সোচ্চার। কিন্তু বাংলাদেশের মাটিতে বসে এসব নিয়ে কথা বলা কতটা বাস্তবসম্মত সে প্রশ্নের পেছনে লুকিয়ে আছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অন্ধকার দিক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন শিক্ষা ব্যবস্থা, পিএইচডি ডিগ্রি ও শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে কথা বলেন পরিমিত ও প্রাজ্ঞ ভাষায়।
এই দেশে থেকে বিদ্যমান কোনো সিস্টেমকে প্রশ্ন তোলা খুব সহজ কাজ নয়। সংস্কারের পথে বারবার বাধা হয়ে দাঁড়ায় এক অদৃশ্য ক্ষমতার বলয়।
আমাদের মতো শিক্ষার্থীরা যদি কিছু বুঝেও থাকি, তবুও বলতে হয় আমরা কিছুই বুঝি না।
ধরুন, পশ্চিমা কাঠামোকে প্রশ্ন করার বা উল্টে দেওয়ার মতো জনবলসমৃদ্ধ মেধা প্রয়োজন কিন্তু তা কোথায়? কেবল অন্তর্দর্শন দিয়ে তো বাস্তবতায় পরিবর্তন আনা যায় না। ড.ইউনুসের থ্রি জিরো তত্ত্বের প্রয়োগ কিন্তু বাস্তবে পশ্চিমা পুঁজিপতিরা কখনোই হতে দিবে না কেননা ওদের স্বার্থে আঘাত লাগবে।জিরো নেট কার্বন নিঃসরণের ধারণা দেয়া সহজ কিন্তু জিয়ো পলিটিক্যাল ডায়নামিক্সের কনটেক্সট এ আদৌ পসিবল?
তাই অবস্থান বিষয়টি বিবেচ্য। আইডিয়া আনয়ন সহজ কিন্তু বাস্তবায়ন সহজ নয়। ক্ষমতা ও রাজনীতির কালো ছায়ায় আইডিয়া নামক আলোকরশ্মিরা কখনো ভেদ করে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে চারদিক আলোকিত করতে পারে না কারণ মনুষ্যপ্রভু তা শুষণ করে, যা পৃথিবীর বাস্তবতা মেনে নিতে হয় আপনাকে, আমাকে, সকলকে।