পশ্চিমা উপনিবেশবাদ
যে জাতি বুঝে না তার স্বকীয়তা, সতন্ত্রতা, স্বজাত্যবোধ সে জাতি মানসিক উপনিবেশবাদের অনুকরণের দাস হবে সেটা স্বাভাবিক। যারা ইংরেজি ভাষা,সাহিত্য, সংস্কৃতি, গান, মুভি, ইংরেজি মিডিয়া,সামাজিক মাধ্যম সর্বপুরি বিশ্বব্যাপী ইংরেজদের প্রতিষ্ঠিত কাঠামোর মধ্যে ফাংশন করছেন তারা নব্য মানসিক উপনিবেশবাদের কলোনি হয়ে আছেন। নিজ মাতৃভাষাকে উপেক্ষা করে যারা উপনিবেশিকদের ভাষায় কথা বলাকে স্মার্ট ভাবেন, যারা তাদের সংস্কৃতি নিজেদের মাঝে লালন করেন , যারা তাদের আদলে পোশাক পড়ে নিজেদের আধুনিক ভাবেন, যারা তাদের খাদ্যাভাসের সংস্কৃতি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবে তুলে ধরেন, যারা তাদের মুভি, গান শুনে রিলস ও ভিডিও বানান, যারা তাদের শিক্ষা ও গবেষণা কাঠামোর মধ্যে ফাংশন করছেন তারা সবাই উপনিবেশবাদের নতুন রূপ নব্য মানসিক উপনিবেশবাদের কলোনি।
যে ভাষাকে নিয়ে এত গর্ব করেন সেই ভাষা আপনার গলা রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সাংস্কৃতিক ভাবে আপনাকে চেপে ধরেছে জোঁকের মতো কিন্তু আপনি মানসিক উপনিবেশবাদের হেলোসিনেশনে আছেন যার কারণে আপনি অনুভব শক্তি হারিয়েছেন তাইতো আপনি আধুনিক কলোনিয়াল দাস। আপনি অনুকরণীয় প্রিয়, পুঁজিবাদী বাণিজ্যিক প্রচারপ্রিয় নিজের শিকড় হারিয়ে।তাই নিজেকে আয়নায় দেখুন কাকে দেখতে পাচ্ছেন। নিজেকে নাকি একজন কলনি হিসেবে!
রেস্টুরেন্ট সংস্কৃতি, বল ডেন্স, পার্টি, ডিজে, এসবকে এ্যাড করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাথে নিজেকে আধুনিক দেখাতে। মর্ডানিজমের নতুন কনসেপ্ট দাড় করালেন নাকি পশ্চিমাদের বানোনো কনসেপ্টের কাঠামোয় ফাংশন করছেন,ভেবে দেখেছেন!
আপনি পুঁজিবাদীদের একটা পণ্য ছাড়া আর কিছুই না। ওরা আপনাকে যেভাবে ব্যবহার করছে আপনি সেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছেন তাদের পণ্যের ব্র্যান্ডিং হয়ে নিজেদের মার্কেটিং করে। পুঁজিবাদীদের মার্কেটিং -হিউম্যান রিসোর্স মেনেজম্যান্ট-বিপণন ব্যবস্থার কাঠামোতে আপনি একটা পণ্য হয়ে ফাংশন করছেন কারণ আপনি মানসিকভাবে উপনেবিশিত।
পশ্চিমাদের মানসিক উপনিবেশবাদ হতে যদি বের হতে পারেন সেদিন হয়তো আপনি নিজ ভাষা, সংস্কৃতি নিয়ে গর্ববোধ করবেন, নিজ শিক্ষা ও অর্থব্যবস্থার কাঠামোতে ফাংশন করবেন,অন্যথায় না।