জুলাই বিপ্লব ও নতুন প্রজন্ম
জুলাই বিপ্লব তরুণ প্রজন্মের আবেগ ও ত্যাগের ফসল, তাদের অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু এই তরুণ প্রজন্মই কেন ভাবে না, একটি দেশের ইতিহাস শুধু একটি বিপ্লব দিয়েই গাঁথা নয়। ষোল বছরের স্বৈরশাসনর অবসান হলেও এখন দেশের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি রক্ষায় আরেকটি বিপ্লব প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারায় জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে এমন একজন জনকল্যাণমুখী ও দেশপ্রেমিক দেশপ্রধান নির্বাচনে তরুণদের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন তীক্ষ্ণ মেধাকে কাজে লাগানোর এখনই সময় নয়তো আবার কোনো স্বৈরশাসক জাতীয় সর্বোচ্চ পদে বসে দেশও জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন। আপনারা জুলাই বিপ্লবের মেধা কোটামুক্ত মেধা করেছেন তা জাতীয় নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে কাজে লাগান। নয়তো পরবর্তী স্বৈরশাসকের পতনের জন্য আপনাদের নতুন প্রজন্মদের রাজপথে নামতে হবে যেমনটি আপনারা করেছিলেন। নিশ্চয়ই নব্বইয়ের স্বৈরশাসকের পতনের কথা ভুলে যাননি তখনও কিন্তু জুলাই বিপ্লবের আবু সাইদ, মুগ্ধ এর মতো নব্বইয়ের বিপ্লবে নাজির উদ্দিন জেহাদ ও পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিয়েছিলেন ও আট বছরের এরশাদের স্বৈরশাসনের অবসানে তাঁর রক্ত ও ঝরেছিল। আপনার নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে রক্ষা করতে শুধু জুলাই বিপ্লব নিয়ে পড়ে না থেকে বাংলার বুকে ঘটে যাওয়া অতীত ক্ষতগুলো নিয়ে ভাবুন।আর যেন স্বৈরতন্ত্র বাংলায় মাথাচাড়া দিতে না পারে, স্বৈরতন্ত্রের বীজকে উপড়ে ফেলতে এই দেশের শাসন কাঠামো, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন, আইন বিভাগ, জাতি ও জাতীয়তাবাদ ও স্বজাত্যবোধের সুদৃঢ় ভিত্তি,জাতির মননে দেশপ্রেমের বীজ যদি গাঁথা না যায়, একাত্তর, নব্বই এর বিপ্লব, জুলাই বিপ্লব অর্থহীন।