আমাদের দেশীয় শিক্ষাব্যবস্থা

 আমাদের দেশীয় শিক্ষাব্যবস্থা 


আমাদের দেশে চাকরির বাজার সীমিত। সরকারি চাকরিতে ভালো পজিশনে যেতে সেই লেবেলের পড়ুয়া হতে হয়।বিসিএসের যে সিলেবাস তা সবার জন্য না। যারা সায়েন্সর সাবজেক্টগুলোতে দুর্বল তারা বিসিএসে টেকার সম্ভাবনা কম। যাদের বেসিক দুর্বল তারা এমন প্রতিযোগিতামূলক প্রতিযোগিতায় কম টেকেন। যারা মেডিকেল ও বুয়েটে পড়েছেন তারাও বিসিএসে বসেন নতুবা ক্যারিয়ার সামনে এগিয়ে যায় না। ব্যাংক, শিক্ষক নিবন্ধনীসহ,বিভিন্ন মন্ত্রনালয়সহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগে তারাই টেকেন যারা দিন রাত এক করে পড়াশোনা করেন।তবু্ও লাখ লাখ মেধাবীদের প্রতিযোগিতায় টেকেন সীমিত আসনের মেধাবীরা।


প্রাইভেট সেক্টরগুলোতে বিশেষ করে গার্মেন্টস ইন্ড্রাস্ট্রি,ঔষধ কোম্পানি,হেলথ সেক্টর, আইটি ও সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো,মিডিয়া, ম্যানুফ্যাকচারিং ও ইনার্জী প্রোডাকশন সেক্টরগুলোতে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেজুয়েট ও পোস্টগ্রেজুয়েটদের সুযোগ বেশি। তবু্ও যে হারে গ্রেজুয়েট তৈরি হয় সে হারে চাকরির বাজার সীমিত।


অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের টপারগণ উচ্চ শিক্ষা, গবেষণাও ক্যারিয়ারমুখী হয়ে  পা রাখে আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড,কানাডা সহ দেশগুলোর নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। ব্রেন ড্রেইন হয় কারণ দেশে গবেষণা ও শিক্ষাখাতে বরাদ্দকৃত অর্থ নামমাত্রই বিনিয়োগ হয়। শিক্ষাক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা তৈরি হবার বদলে হয় শিক্ষা সংকট। যারাও থাকে রাজনীতিতে কুলষিত হয় শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন। পড়াশোনা ও গবেষণার চেয়ে নেতা হওয়াই অনেক তরুণদের স্বপ্ন।


যারা স্বকীয় চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে স্টার্টআপ বিজনেস শুরু করতে চান তাদের মূলধন ও ব্যাংক থেকে ঋণের অভাবে থেমে যেতে হয় ফলে এ দেশে আমেরিকার মতো উদ্যোক্তা তৈরি হয় না।


এদেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় ক্রিয়েটিভ থিংকিং এর চেয়ে মুখস্থবিদ্যা ও এর প্রয়োগ বেশি। পাঠ্যবইয়ের নলেজে এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ও কর্মক্ষেত্রের সাফল্য নির্ধারিত হয়, স্বাধীন ও স্বকীয় চিন্তা ও সৃজনশীলতার বিকাশ এ দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় নেই।এদেশে কোনদিন ও ইলন মাস্ক, বিল গেটস, স্টিভ জবস, ওয়ারেন বাফেট, জাকারবার্গ তৈরী হবার শিক্ষা কাঠামো এদেশে এখনো গড়ে ওঠেনি। শিক্ষাখাতে সবচেয়ে কম বরাদ্দ আসে। গবেষণার সংস্কৃতি আছে তবুও তা!। গবেষণায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ হয় না। তবুও এগিয়ে যাচ্ছে ধীরগতিতে।


শিক্ষাব্যবস্থার অভ্যন্তরে স্বজনপ্রীতি, নিয়োগ ও ভর্তি দুর্নীতি, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি শিক্ষার মানকে আরো অবনমিত করে। মুখস্থনির্ভর চাকরির নিয়োগ কাঠামো ক্রিয়েটিভ মস্তিষ্ককে পেছনে ফেলে ফলে পুরাতন প্রতিষ্ঠিত কাঠামোয় ফাংশন করে প্রতিষ্ঠান।


শিক্ষা ব্যবস্থায় ও চাকরির নিয়োগ কাঠামোর ধারা যদি সময়োপযোগী ও আধুনিকায়ন না করা হয় উন্নত বিশ্বের সাথে তাল না মিলিয়ে বেকারত্ব, হতাশা, ব্রেইন ড্রেইন অব্যাহত থাকবে ; দেশের অর্থনীতি তত অনগ্রসর হবে। শিক্ষাবিদদের দেশীয় আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার বিষয় মাথায় রেখেই  শিক্ষাপদ্ধতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে এবং তা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তথ্য প্রযুক্তি ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট এর মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে মানব সম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে শিক্ষাপদ্ধতির বাস্তবায়ন করা উচিত। অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় ব্রিটিশ ও আমেরিকান ক্যারিকুলাম থেকে বের হয়ে নিজস্ব ক্যারিকুলামে শিক্ষাপদ্ধতি বাস্তবায়নে শিক্ষাবিদদের অনন্য চিন্তার প্রয়োগ রাখা উচিত।


Popular posts from this blog

Mental Sickness

E-learning

Imperialism VS Terrorism

At Sixes And Sevens

Bilateral Coherence and Dissonance Relationship between Western and Bangladeshi Culture

Mentalism:07

Shrewdness

Oppression upon Women Folks