মিক্সড মেথড এপ্রোচ

 

মিক্সড মেথড এপ্রোচ
সোশ্যাল সায়েন্সে যত গবেষণাই হোক, তার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে পৌঁছানো দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। এখানে একাডেমিক এক্সেলেন্সকে সামাজিক এক্সেলেন্সের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। মানুষ, সমাজ, সামাজিক উপাদান এবং সামাজিক সমস্যা সময়ের আবর্তে পরিবর্তিত হচ্ছে; সেই পরিবর্তিত অবস্থাকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত তত্ত্বের আলোকে, একটি কাঠামোগত পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। ফলে নলেজ রিকনস্ট্রাকশন হচ্ছে, কারণ সোশ্যাল সায়েন্সের উপাদানগুলো অপরিবর্তিত; শুধু সময়ের পরিবর্তনে এরা বিভিন্ন রূপ নেয়।
সোশ্যাল সায়েন্সে গবেষণাপত্রে আইডিয়ার পুনরাবৃত্তি ঘটে। উদাহরণস্বরূপ, ফেমিনিজমের মাধ্যমে নারীর এজেন্সি, এমপাওয়ারমেন্ট ইত্যাদি সাধারণ উপাদান নিয়ে শত শত পেপার পাওয়া যায়; এতে নতুনত্ব খুব কম থাকে, মূলত এটি পুনরাবৃত্ত ধারণা। ওয়াল্ড স্ট্রাকচারকে গ্রামসির হেজেমনিক থিওরি ও মার্ক্সবাদ দিয়ে বিশ্লেষণ করলে পাওয়ার স্ট্রাকচার, হেজেমনি, মাইনরিটি, পাওয়ার রিলেশন ইত্যাদি এলিমেন্ট পাওয়া যায়, যার উপর বহু গবেষণাপত্র লেখা হয়েছে। সময়ের আবর্তে শুধু ক্ষমতা ও অথোরিটি পরিবর্তিত হয়, কে শাসক ও কে শোষিত তা পরিবর্তিত হয়, কিন্তু মূল উপাদানগুলো অপরিবর্তিত থাকে।
ন্যাচারাল সায়েন্সের মতো সোশ্যাল সায়েন্স সমাজকে তাৎক্ষণিক ফিডব্যাক দিতে পারে না; সমাজের কল্যাণে কাজে আসে, মানুষদের নতুন ধারণা দিয়ে সত্যের মুখোমুখি করে। এ ক্ষেত্রে সোশ্যাল সায়েন্স সীমাবদ্ধ। তাই, যদি দুটি সেক্টরকে একত্রিত করে গবেষণা করা হয়, তবে সমাজ অধিক উপকৃত হবে। মিক্সড মেথড এপ্রোচ গবেষণায় ইন্টিগ্রেশন, নতুনত্ব এবং নতুন আইডিয়া আনার জন্য অপরিহার্য; এটি পুনরাবৃত্তি এড়িয়ে যায়। অবশ্য সোশ্যাল সায়েন্সের সব সাবজেক্টের ক্ষেত্রে আইডিয়ার পুনরাবৃত্তি কথাটি প্রযোজ্য নয়। বিশেষ করে সাহিত্যভিত্তিক সাবজেক্টগুলোতে আইডিয়ার জেনারেলাইজেশন চলে আসে।
ধরুন আপনি সাহিত্যে সাহিত্যিক টেক্সটের সাথে ক্রসডিসিপ্লিনারি এপ্রোচে সাহিত্য, ফিলোসফি, পলিটিকাল সায়েন্স, সাইকোলজির সমন্বয়ে একটি ক্রসডিসিপ্লিনারি ফ্রেমওয়ার্ক দাঁড় করালেন; তাহলে আইডিয়া জেনারেশনে নতুনত্ব ও ক্রিয়েটিভিটি আসবে, পাঠক নতুন আউটলুক পাবে। যদি সেই প্রথাগত কাঠামোয় আবদ্ধ থাকা হয়, আইডিয়ার পুনরাবৃত্তি আসবেই।
ধরুন উনিশ শতকেও বৈশ্বিক সমাজ ব্যবস্থায় মুদ্রাস্ফীতি হয়েছে, এখন বর্তমান শতকের বৈশ্বিক বাস্তবতায় মুদ্রাস্ফীতি হচ্ছে। এখন নিজেকে প্রশ্ন করুন—দুটি পেপার, দুটি সময়ের ব্যবধানে তৈরি হলে পার্থক্য কোথায়? পার্থক্য ফ্রেমে। উনবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উপাদান ও একবিংশ শতকের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উপাদানের পার্থক্য আপনার দুই সময়ের পেপারে আইডিয়ায় বৈচিত্র্য নিয়ে আসে। এখন অর্থনীতিকে যদি গ্লোবাল পলিটিক্স, গ্লোবাল পলিটিক্যাল সাইকোলজির ইন্টিগ্রেশন করা হয়, তা মাল্টিডিসিপ্লিনারি ফ্রেমওয়ার্কে দাঁড়াবে, পাঠক নতুনত্ব পাবে। অবশ্য এ ধরনের গবেষণা চ্যালেঞ্জিং, যা বৈশ্বিক শক্তি কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করে। বৈশ্বিক কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করে নতুনত্ব আনা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং, যদিও তা পোস্টকলোনিয়াল স্টাডিজের অন্তর্ভুক্ত।
©

Popular posts from this blog

Mental Sickness

E-learning

Imperialism VS Terrorism

At Sixes And Sevens

Bilateral Coherence and Dissonance Relationship between Western and Bangladeshi Culture

Mentalism:07

Shrewdness

Oppression upon Women Folks