Posts

সুফিজম ও ইসলাম কি সাংঘর্ষিক?"

  "সুফিজম ও ইসলাম কি সাংঘর্ষিক?" ইসলাম ও সুফিজম সাংঘর্ষিক নয় বরং ইসলামের মৌলিক বিধানগুলোর উপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত যা সুফিবাদের প্রবর্তক জুনায়েদ বাদদাদী স্পষ্টভাবে অনুশীলন করেছেন। "আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক ও শিরক বর্জন" উল্লেখ্য যে আল্লাহর সাথে বান্দার সংযোগে কোনো মধ্যস্থতাকারী থাকতে পারেন না কারণ আত্মিক উৎকর্ষতা সাধনে কোনো পীর,হুজুর,বা স্বপ্ন বিশ্লেষণকারীর সাহায্য গ্রহণ বা তাঁদের আল্লাহ তায়ালা ও বান্দার মধ্যে সংযোগকারী হিসেবে গ্রহণও শিরক। তাইতো পবিত্র কুরআনের সূরা ফাতিহায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে স্রষ্টা ও বান্দার সম্পর্ক দ্বিপাক্ষিক, ত্রিপাক্ষিক হতে পারে না। "আপনারই প্রতি আমরা ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র আপনারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি।"–সূরা ফাতিহা ১:৫ " তুলনামূলক খ্রিস্টান ধর্মের দৃষ্টিভঙ্গি" আসুন, খ্রিস্টান ধর্মকে বোঝার চেষ্টা করি। খ্রিষ্ট ধর্মে ধর্মীয় যাজক স্রষ্টা ও বান্দার মধ্যে সংযোগকারী হিসেবে কাজ করেন এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা বিশেষ করে ক্যাথলিক বা প্যাপিস্ট ও অর্থোডক্সরা বিশ্বাস করেন পোপ তাদের মধ্যে স্রষ্টার সংযোগ ঘটান কারণ চার্চে প্রার্...

গবেষণায় অলটারনেটিভ মেথড কেনো উপযোগী?

 গবেষণায় অলটারনেটিভ মেথড কেনো উপযোগী? গবেষণায় প্রায়ই দেখা যায়, রিসার্চ কোশ্চেনের উত্তর পেতে আমরা নির্দিষ্ট কিছু মেথডই বেছে নিই। এই সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক আনএক্সপ্লোরড বা কম আলোচিত বিষয় নিয়ে গবেষণা করা হয় না। এই সমস্যার সমাধানে অল্টারনেটিভ রিসার্চ মেথড অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে। এটি নমনীয়, উদ্ভাবনী এবং কনটেক্সট-সেনসেটিভ। তাই গবেষকগণ প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে এই মেথডে ডাটা কালেকশন করতে পারেন। ধরুন, আপনি সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষের মনস্তত্ত্ব বা আচরণ বোঝার চেষ্টা করছেন। নিশ্চিতভাবেই ইন্টারভিউ, কুইশেনিয়ার বা ফোকাস গ্রুপ মেথডগুলো সব সময় কার্যকরী নয়। ধরুন, আপনি কোনো ইন্টেলেকচুয়াল ব্যক্তিকে ফলো করেন। তার মনস্তত্ত্ব বোঝার জন্য তার শেয়ারকৃত কনটেন্ট, ফলো করা পেজ, কনটেন্টের ধরন, ভাষার ব্যবহার এবং নেটওয়ার্কিং পর্যবেক্ষণ করাই আপনার নির্ধারিত মেথড, যার মাধ্যমে তার মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো বোঝা সম্ভব। অন্য উদাহরণ হিসেবে, কোনো অনলাইন কমিউনিটির ওপর গবেষণা পরিচালনা করা যাক। ধরুন, আপনি ছয় মাসব্যাপী বিসিএস অনলাইন প্রিপ্যাকেজ কোর্স এবং শিক্ষার্থীদের বিহেভিয়ার প্যাটার্ন পর্যবেক্ষণ করতে চান। ...

নলেজ প্রোডাকশন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত

  নলেজ প্রোডাকশন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্র নির্ধারণ করে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার ক্ষেত্র, নলেজ প্রোডাকশনের পরিধি, সর্বোপরি গবেষণার বিষয়বস্তুর পরিধি। নলেজ প্রোডাকশন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত প্রোডাকশন কালচারকে শোষণ করছে পলিটিকাল হেজেমনিক স্ট্রাকচার। একাডেমিয়া, ResearchGate, Google Scholar–এ কিছু পেপার ঘাটাঘাটি করে দেখলাম শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে শেখ হাসিনার সময় যে পরিমাণ রিসার্চ পেপার পাবলিশ হয়েছে, ঐ সময় মওলানা ভাসানীকে নিয়ে লেখাই হয়নি। বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা হেজেমনিক স্ট্রাকচার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত যা আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে বেশি হয়। শেখ মুজিবের অবদান ১৯৭০ পর্যন্ত তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু মওলানা ভাসানী জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দেশ নিয়ে ভেবেছেন। ব্রিটিশ শাসনামল থেকে পাকিস্তান শাসনামল এমনকি স্বাধীনতা পরবর্তী প্রায় পাঁচ বছর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত দেশের কথা ভেবেছেন। এমনকি ভারতীয় আগ্রাসন নামক ফারাক্কা বাঁধের প্রথম আওয়াজ তাঁর গলা থেকেই এসেছিল, কিন্তু শেখ মুজিব ভারতের সাথে সুনিবিড় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখেন যা তাঁর মেয়ে শেখ হাসিনাও রেখেছেন। আওয়ামী লীগ...

"Death, Intellectuality and Mindset of the Bengali"

 "Death, Intellectuality and Mindset of the Bengali" Our country is a peculiar country. After a heroic man dies, his dignity appears as an academic and national value. But why this happens remains a valuable question.After his death, the nation realizes what it has lost. Mourn culture begins alongside academic practice on him. Does the Bangalis' mentality seem ludicrous? Academic researchers, essayists, columnists, and poets exercise intellectual practices focusing on him. What is its ultimate result? It is easy to say. The heroic martyr has met a heroic death against fascist and Indian hegemony, raising his indomitable voice and awakening Bangalis' conscience against hegemonic ideology.Researchers will follow research methodology in shaping the idea; essayists and columnists will shape the idea into their prescribed structure; poets use poetic literary terms in shaping the idea.Ultimately, everyone thinks of their own job, not the martyr. If they thought otherwise, t...

মিক্সড মেথড এপ্রোচ

  মিক্সড মেথড এপ্রোচ সোশ্যাল সায়েন্সে যত গবেষণাই হোক, তার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে পৌঁছানো দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। এখানে একাডেমিক এক্সেলেন্সকে সামাজিক এক্সেলেন্সের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। মানুষ, সমাজ, সামাজিক উপাদান এবং সামাজিক সমস্যা সময়ের আবর্তে পরিবর্তিত হচ্ছে; সেই পরিবর্তিত অবস্থাকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত তত্ত্বের আলোকে, একটি কাঠামোগত পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। ফলে নলেজ রিকনস্ট্রাকশন হচ্ছে, কারণ সোশ্যাল সায়েন্সের উপাদানগুলো অপরিবর্তিত; শুধু সময়ের পরিবর্তনে এরা বিভিন্ন রূপ নেয়। সোশ্যাল সায়েন্সে গবেষণাপত্রে আইডিয়ার পুনরাবৃত্তি ঘটে। উদাহরণস্বরূপ, ফেমিনিজমের মাধ্যমে নারীর এজেন্সি, এমপাওয়ারমেন্ট ইত্যাদি সাধারণ উপাদান নিয়ে শত শত পেপার পাওয়া যায়; এতে নতুনত্ব খুব কম থাকে, মূলত এটি পুনরাবৃত্ত ধারণা। ওয়াল্ড স্ট্রাকচারকে গ্রামসির হেজেমনিক থিওরি ও মার্ক্সবাদ দিয়ে বিশ্লেষণ করলে পাওয়ার স্ট্রাকচার, হেজেমনি, মাইনরিটি, পাওয়ার রিলেশন ইত্যাদি এলিমেন্ট পাওয়া যায়, যার উপর বহু গবেষণাপত্র লেখা হয়েছে। সময়ের আবর্তে শুধু ক্ষমতা ও অথোরিটি পরিবর্তিত হয়, কে শাসক ও কে শোষি...