সুফিজম ও ইসলাম কি সাংঘর্ষিক?"

  "সুফিজম ও ইসলাম কি সাংঘর্ষিক?"


ইসলাম ও সুফিজম সাংঘর্ষিক নয় বরং ইসলামের মৌলিক বিধানগুলোর উপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত যা সুফিবাদের প্রবর্তক জুনায়েদ বাদদাদী স্পষ্টভাবে অনুশীলন করেছেন।


"আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক ও শিরক বর্জন"


উল্লেখ্য যে আল্লাহর সাথে বান্দার সংযোগে কোনো মধ্যস্থতাকারী থাকতে পারেন না কারণ আত্মিক উৎকর্ষতা সাধনে কোনো পীর,হুজুর,বা স্বপ্ন বিশ্লেষণকারীর সাহায্য গ্রহণ বা তাঁদের আল্লাহ তায়ালা ও বান্দার মধ্যে সংযোগকারী হিসেবে গ্রহণও শিরক। তাইতো পবিত্র কুরআনের সূরা ফাতিহায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে স্রষ্টা ও বান্দার সম্পর্ক দ্বিপাক্ষিক, ত্রিপাক্ষিক হতে পারে না।


"আপনারই প্রতি আমরা ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র আপনারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি।"–সূরা ফাতিহা ১:৫



" তুলনামূলক খ্রিস্টান ধর্মের দৃষ্টিভঙ্গি"


আসুন, খ্রিস্টান ধর্মকে বোঝার চেষ্টা করি। খ্রিষ্ট ধর্মে ধর্মীয় যাজক স্রষ্টা ও বান্দার মধ্যে সংযোগকারী হিসেবে কাজ করেন এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা বিশেষ করে ক্যাথলিক বা প্যাপিস্ট ও অর্থোডক্সরা বিশ্বাস করেন পোপ তাদের মধ্যে স্রষ্টার সংযোগ ঘটান কারণ চার্চে প্রার্থনা পোপ,বিশপদের মাধ্যমে স্রষ্টার কাছে পৌছান যা সূরা ফাতিহার উক্ত আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক।


"বিকৃত সুফজমের সমসাময়িক উদাহরণ দক্ষিণ এশীয় দেশের প্রেক্ষাপটে "


ইসলাম ও লোকজ বা বিকৃত সুফিজমের সময়োপযোগী উদাহরণ হিসেবে সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তৃতীয় স্ত্রী বুশরা বিবি উল্লেখযোগ্য। তিনি দ্বাদশ শতাব্দীর সুফি কবি বাবা ফরিদের মাজারে সময় কাটানো, দীর্ঘ সাধনার পর নিজেকে পীর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা, সারা রাত নামাজ ও ইসলামী রহস্যবাদের অধ্যয়ন, এবং তীর্থযাত্রার নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড করেছেন। (উইকিপিডিয়া, ২০২৫)

এগুলি সবই ইসলামী শরীয়া এবং প্রকৃত সুফিবাদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।



"প্রকৃত সুফিজম কি বলে?"



অথচ, প্রকৃত সুফিজম বা তাসাওফ হলো কোরআন ও সুন্নাহ-এর ভিত্তিতে যেটি ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ মেনে চলে। এখানে আল্লাহ তায়ালা ও বান্দার মধ্যে কোনো মধ্যস্থতাকারী নেই। মাজার পূজা বা কবর পূজার কোনো স্থান নেই; আধ্যাত্মিক উৎকর্ষের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র আল্লাহর প্রতি সরাসরি মনোনিবেশ।


"মাজার বা কবর পূজা সম্পর্কে কুরআন ও রাসূলের বাণী"



পবিত্র কুরআনের সূরা আল নিসায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে, "আল্লাহকে ইবাদত কর এবং কাউকে তাঁর সাথে শিরক করো না।"– আল‑নিসা ৪:৩৬, ৪:১১৬


জুন্দুব ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত, নবী করীম  বলেছেন:

"যারা তোমাদের পূর্বে ছিল, তারা তাদের নবী ও ধার্মিক লোকদের কবরগুলোকে ইবাদতের স্থান বানাত। তোমরা কবরগুলোকে মসজিদ হিসেবে নেবো না; আমি তোমাদেরকে এ কাজ থেকে বিরত রাখি।"(Sahih Muslim 5:24–28, sunnah.com)


তাই যারা পীরমুখী জীবনকে ইসলামী জীবনব্যবস্থা হিসেবে মনে করেন, তারা না প্রকৃত সুফিজমের নিকটবর্তী না ইসলামের নিকটবর্তী। 'বুশরা বিবি' র মতো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে যেভাবে বিকৃত সুফিজমের চর্চা হচ্ছে ও সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে ভুল পথে চালিত করা হচ্ছে, ইসলাম থেকে বিচ্যুত করা হচ্ছে তা আশঙ্কাজনক।


©দ্বীন সাঈদীন



Popular posts from this blog

Mental Sickness

E-learning

Imperialism VS Terrorism

At Sixes And Sevens

Bilateral Coherence and Dissonance Relationship between Western and Bangladeshi Culture

Mentalism:07

Shrewdness

Oppression upon Women Folks