মহাবিশ্ব, মানব সৃষ্টি ও এলিয়েন: ধর্ম, বিজ্ঞান ও ধারণার ইন্টারডিসিপ্লিনারি অ্যাপ্রোচ"
"মহাবিশ্ব, মানব সৃষ্টি ও এলিয়েন: ধর্ম, বিজ্ঞান ও ধারণার ইন্টারডিসিপ্লিনারি অ্যাপ্রোচ"
কুরআন অনুযায়ী মানুষকে মূলত মাটি, কাদা বা মাটির নির্যাস থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। পরবর্তীতে মানবজাতির বংশধারা বীর্যের মাধ্যমে চলমান হয়েছে এবং ভ্রূণগত বিকাশ ধাপে ধাপে সংঘটিত হয়–বীর্য, আলাক (লেগে থাকা পদার্থ/জমাটবদ্ধ অবস্থা), মাংসপিণ্ড, হাড় এবং হাড়ে মাংস পরানোর পর্যায় অতিক্রম করে (সূরা আল-মু’মিনূন ২৩:১২–১৪; আস-সাজদাহ ৩২:৭–৯; আল-হিজর ১৫:২৬; আর-রহমান ৫৫:১৪; আলাক ৯৬:১–২)। এছাড়া সমগ্র মানবজাতিকে একটি প্রাণ থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তা থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করা হয়েছে (সূরা নিসা ৪:১)।
জ্বীনকে আগুনের শিখা বা দহনকারী আগুন থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে (সূরা আর-রহমান ৫৫:১৫; আল-হিজর ১৫:২৭)।
আর Sahih Muslim-এ বর্ণিত একটি হাদিস অনুযায়ী, ফেরেশতাদের নূর (আলো) থেকে, জ্বীনদের আগুনের শিখা থেকে এবং আদমকে পূর্বে বর্ণিত উপাদান থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
এছাড়া কুরআনের সূরা আশ-শূরা (৪২:২৯)-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে আল্লাহ আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং উভয়ের মধ্যে বিভিন্ন জীবজন্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন, যা মহাবিশ্বে অন্যান্য প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা সম্পর্কে চিন্তার অবকাশ সৃষ্টি করে।
বিজ্ঞান ও ইসলাম উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই মানুষকে পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও শিম্পাঞ্জি, ডলফিন, হাতি, কাক ও অক্টোপাসের মতো প্রাণীরাও উল্লেখযোগ্য বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়, তবুও মানুষের জ্ঞানীয় সক্ষমতা তাদের থেকে অনেক বেশি।
তাহলে এলিয়েন কিভাবে মানুষ অপেক্ষা বুদ্ধিমান হবে? মহাবিশ্বের অনাবিষ্কৃত গ্রহসমূহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে এমন ব্যাখ্যা বিজ্ঞানীরা সম্ভাবনা হিসেবে আলোচনা করেছেন, তবে এখন পর্যন্ত এলিয়েন বা তাদের সভ্যতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই তাদের মানুষের চেয়ে বেশি বা কম বুদ্ধিমান হওয়া সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না।
পাশাপাশি, পশ্চিমা এজেন্ডা, অর্থনৈতিক শক্তিধর গোষ্ঠী বা ইলুমিনাতি সম্পর্কিত গোপন বিশ্বনিয়ন্ত্রণের দাবিগুলোর কোনো বৈজ্ঞানিক বা প্রমাণভিত্তিক ভিত্তি নেই, তাই সেগুলোকে নিশ্চিত সত্য হিসেবে গ্রহণ করা যুক্তিসঙ্গত নয়।
© দ্বীন সাঈদীন