আত্মহত্যা

 "আত্মহত্যার পেছনে কি একক হাত নাকি অদৃশ্য হাত "


 সমাজে যখন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে, তখন অনেক পরিবার ঘটনাটিকে শুধু সাইকোলজিক্যাল প্রবলেম বা একাডেমিক চাপ সহ্য করতে না পারা বলে ব্যাখ্যা দেয়। অথচ বাস্তবতা আরও জটিল।


বাংলাদেশভিত্তিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যামূলক চিন্তার পেছনে পারিবারিক প্রত্যাশা একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ, যা 47.13% শিক্ষার্থী উল্লেখ করেছে। একই গবেষণায় একাডেমিক চাপ ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎও বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।


প্রশ্ন হলো, পরিবার কি পুরোপুরি দায়মুক্ত? যদি একজন সন্তানের ওপর এমন প্রত্যাশা চাপিয়ে দেওয়া হয়, যা তার মানসিক সক্ষমতা, আগ্রহ বা বাস্তবতার সাথে খাপ খায় না, তাহলে সেই চাপের দায় কি শুধু সন্তানের? কেন একজন সন্তানকে মা বাবার ভুল সিদ্ধান্ত, সামাজিক মর্যাদার প্রতিযোগিতা কিংবা অযৌক্তিক প্রত্যাশার ভার বহন করতে হবে?


মানসিক স্বাস্থ্য কেবল ব্যক্তিগত দুর্বলতার বিষয় নয়, এটি পারিবারিক পরিবেশ, আবেগগত সমর্থন, নিরাপদ যোগাযোগ ও সামাজিক আচরণের সাথেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। পরিবার যদি সন্তানের ভয়, ব্যর্থতা, সীমাবদ্ধতা ও ব্যক্তিসত্তাকে গুরুত্ব না দেয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে তা ভয়াবহ মানসিক সংকট তৈরি করতে পারে।


তবে আত্মহত্যাকে কখনোই সমাধান বা বিকল্প পথ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি একটি জটিল সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সংকট, যেখানে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও প্রতিষ্ঠান সব পক্ষের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনামূলক আলোচনা প্রয়োজন।


রেফারেন্স : 


https://journalajrcos.com/index.php/AJRCOS/article/view/406


©দ্বীন সাঈদীন

Popular posts from this blog

Mental Sickness

E-learning

Imperialism VS Terrorism

At Sixes And Sevens

Bilateral Coherence and Dissonance Relationship between Western and Bangladeshi Culture

Mentalism:07

Shrewdness

Oppression upon Women Folks