উন্নয়নের মডেল : হাইব্রিড নাকি স্বতন্ত্র
উন্নয়নের মডেল : হাইব্রিড নাকি স্বতন্ত্র
দেশীয় শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কেন যেন ব্যাপক আগ্রহ কাজ করে। জাপানের মতো দেশ নিজ মাতৃভাষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক সকল ক্ষেত্রে দেশীয় মাতৃভাষাকে অগ্রাধিকার দেয়। জাপানের আত্নমর্যাদা ও স্বজাত্যবোধ প্রবল বলেই ব্যবসা বাণিজ্য, গবেষণা, প্রযুক্তি, সকল ক্ষেত্রেই জাপানি ভাষার অগ্রাধিকার ইংরেজিতে বিকল্প রেখে।
আর আমাদের দেশে তৃতীয় ভাষা শেখার জোড় দেয়া হয়। তৃতীয় ভাষা সেই দেশের ভাষাকেই টার্গেট করছে যে দেশ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। হয়তো তা চীনা ভাষাই হতে চলেছে। নয়তো কোরিয়া। বাংলাদেশ সেই ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসেবে টার্গেট করবে যে ভাষা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ বা বৈশ্বিক শিক্ষাব্যবস্থায় ইংরেজির পর তৃতীয় অবস্থানে আছে।দেশ হয়তো টার্গেট করছে এমন একটি ভাষা শেখার গুরুত্বারোপ যা দক্ষ জনবল রপ্তানিতে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে ভূমিকা রাখবে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে ভূমিকা রাখবে।
ইরান যেখানে নিজস্ব সার্চ ইঞ্জিন তৈরি করে, চীন যেখানে এ আই আপগ্রেড ও লন্স করে বৈশ্বিক প্রযুক্তিতে পশ্চিমাদের মতো নিজস্বতা বজায় রাখে সেখানে আমরা বাঙালি স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরেও নিজস্ব ভাষায় একটি কী বোর্ড (অভ্র) তৈরি করার সক্ষমতা দেখিয়েছি যাও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ডা. মেহেদী হাসান খান প্রোগ্রামটি বানান যাতে স্বজাত্যবোধের ছাপ স্পষ্ট কিন্তু রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে এখনো হয়নি।
চীন আশির দশকেও দুর্নীতিতে শীর্ষে ছিল।অর্থনীতি ছিল ভঙ্গুর তখন আমাদের দেশের অবস্থা চীনের চেয়ে ভালো ছিল। আজ চীন কোথায়, আমরা কোথায়! চীনের রাষ্ট্রীয় কাঠামো, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক অগ্রগতির মডেল বিশ্লেষণ করলে আর দেশীয় রাষ্ট্রীয় কাঠামো, অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক অগ্রগতির মডেলের বিশ্লেষণের গ্যাপ যদি দেশীয় নীতিনির্ধারকগণ খুঁজে সে অনুযায়ী নতুন মডেল ডিজাইন করে তা বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতা করেন তাহলে দেশ হয়তো এগিয়ে যাবে। তেমনি জাপান ও কোরিয়ার উন্নয়নের পেছনের বিষয়গুলো নিয়ে নীতিনির্ধারক,কূটনীতিক, গবেষকদের নজর দেয়া উচিত।
আমাদের দেশীয় মডেল কি হাইব্রিড হবে নাকি ইউনিক হবে তার উপর নির্ভর করবে দেশ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। স্বতন্ত্রতা, স্বজাত্যবোধ, স্বকীয়তার সূত্র ও সমীকরণ সমাধান না করে হাইব্রিডিটির উৎপাদকে যতই দেশকে বিশ্লেষণ করা হোক না কেন ইউনিক উপাদান আসবে না। আর দেশ চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানের মতো স্বতন্ত্রও হতে পারবে না।
©দ্বীন সাঈদীন