দুর্লভ খনিজ, পরাশক্তি ও একমুখী বিশ্বব্যবস্থার নকশা

 দুর্লভ খনিজ, পরাশক্তি ও একমুখী বিশ্বব্যবস্থার নকশা

একটা ক্ষুধার্ত বাঘ ট্রাম্প, যার টার্গেট হলো খনিজ ও দুর্লভ খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দেশগুলোর সম্পদ গ্রাস করা। ডেনমার্কের অধীনে থাকা গ্রিনল্যান্ডও তার অধীনে নিতে হবে। কেন? কারণ গ্রিনল্যান্ডে ইউরেনিয়াম, লোহা, নিওডাইমিয়াম, তেল ও গ্যাস রয়েছে।

ভেনেজুয়েলা কেন তার দরকার? আমেরিকার তেল পরিশোধনাগার বাঁচাতে ঘন অপরিশোধিত তেল প্রয়োজন, যা ভেনেজুয়েলায় সহজলভ্য। রাশিয়ার সঙ্গে বৈরিতার কারণে এটি সরাসরি আমদানি করা সম্ভব নয়। কানাডার কাছ থেকে আমদানি করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ইরানকে কেন সবসময় টার্গেট করা হয়? কারণ ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখলে পারমাণবিক ও সামরিকভাবে শক্তিশালী হয়ে আমেরিকার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে।

চীনের কাছে রয়েছে নিওডাইমিয়াম নামক দুর্লভ খনিজ, যা দিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স এবং সামরিক প্রযুক্তির বিশ্ববাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এই ক্ষেত্রে আমেরিকা অনেকাংশে নির্ভরশীল হলেও চীনকে চোখ রাঙাতে পারে না।

অন্যদিকে, রাশিয়াকে ২০২২-এর ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হয়েছে। উল্টো রাশিয়া একলা চলো নীতি অনুসরণ করে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও কৌশল প্রয়োগ করে টিকে আছে, বিশেষ করে এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে।

উত্তর কোরিয়ার কিম জং-উনের ক্ষেত্রে আমেরিকার “আই ডোন্ট কেয়ার” মনোভাব স্পষ্ট, কারণ পারমাণবিক অস্ত্র তাদের আছে।

ফিলিস্তিনের উপর ইসরায়েলকে লেলিয়ে দিয়ে, বিশ্ব মিডিয়া, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং আণবিক শক্তি কমিশনকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এর মাধ্যমে বিশ্বের চোখে ফিলিস্তিনকে ভাঙাচোরা অবস্থা থেকে পুনর্গঠনের চিত্র তুলে ধরা হয়।

পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থার স্ট্রাকচারাল সিস্টেম—যেমন আইএমএফ, ইউএন, বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন, গ্লোবাল মিডিয়া ও এন্টারটেইনমেন্ট এবং কনজিউমার ইন্ডাস্ট্রি, সিলিকন ভ্যালি—মাধ্যমে আমেরিকা বিশ্বের শাসনতন্ত্রকে নিজের বানানো নীতিতে পরিচালিত করছে।

এই আধুনিক বিশ্বে যুদ্ধ শুধু ভূমির জন্য নয়, খনিজ সম্পদের জন্যও, যা প্রযুক্তি বিনির্মাণে ব্যবহৃত হয়। এভাবেই পুরো বিশ্বকে নিজের হাতের মুঠোয় আনা সম্ভব হয়, যেখানে অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয় এবং বৈষম্য চরমে ওঠে। পুরো বিশ্বকে এক দেশ, এক নীতি, একমুখী বিচারব্যবস্থার অধীনে এনে সেক্যুলারিজমভিত্তিক একমুখী বৈশ্বিক রাষ্ট্রব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে বিশ্ব পরিচালিত করার স্বপ্ন দেখা হচ্ছে।

© দ্বীন সাঈদীন

Popular posts from this blog

Mental Sickness

E-learning

Imperialism VS Terrorism

At Sixes And Sevens

Bilateral Coherence and Dissonance Relationship between Western and Bangladeshi Culture

Mentalism:07

Shrewdness

Oppression upon Women Folks