পঞ্চান্ন বছরে বাংলাদেশ

 পঞ্চান্ন বছরে বাংলাদেশ 


দেশকে অস্থিতিশীল করার পেছনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে; যাদের একটি অংশ বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছে। ভারত গত পনের বছরে গত সরকারের সময়ে যে সুবিধা পেয়েছে, তা পূর্ববর্তী কোনো সরকারের আমলে এত বিস্তৃত ছিল না। ভারত দেখছে তাদের নিজস্ব স্বার্থ। ওসমান হাদির ওপর আক্রমণকে নির্বাচন কমিশনার যেভাবে হালকাভাবে নিয়েছেন, তাতে তাঁর যোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ভারতের তিনদিকে ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ অবস্থিত।


হাসনাত আবদুল্লাহর ভারতের আধিপত্যবাদ, কৌশলগত সন্ত্রাসবাদ ও রাজনৈতিক সন্ত্রাস লালনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রশংসনীয়; কিন্তু সেভেন সিস্টার্সকে ভারতীয় মানচিত্র থেকে বাদ দেওয়ার মতো বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে উত্তেজক ও গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের মন্তব্য বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপের মুখে ফেলতে পারে এবং ভারত-বাংলাদেশ আঞ্চলিক দোটানা ও উত্তেজনা বাড়াতে পারে। আবেগের বশবর্তী হয়ে এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া সমীচীন নয়, যা দেশকে বড় ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।


কৌশলগত বন্ধুত্ব বজায় রাখতেই হবে ভারত পেছন থেকে যতই কলকাঠি নাড়ুক না কেন। ইন্টারপোলের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত, এবং প্রশাসন ও বিভিন্ন সেক্টরে সুবিধাবাদী তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের জবাবদিহির আওতায় না আনা পর্যন্ত, স্বাধীনতার পঞ্চান্ন বছরেও দেশকে আক্ষরিক অর্থে সম্পূর্ণ স্বাধীন বলা কঠিন।


স্বাধীনতা বারবার আসে না তা একবারই আসে। স্বৈরাচারী শাসনের পতনের মাধ্যমে যে স্বাধীনতার কথা বলা হচ্ছে, তাকে রাজনৈতিক স্বাধীনতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে, যা জুলাই বিপ্লবের নির্যাসে রচিত।


পঞ্চান্ন বছর আগে ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে (যদিও এই সংখ্যার ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে) এবং প্রায় ১৫০টি দেশের স্বীকৃতিতে বিশ্বের মানচিত্রে ‘বাংলাদেশ’ নামক ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটি ছোট রাষ্ট্র স্থান পেয়েছে। দীর্ঘ নয় মাস পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কৌশলগত বন্ধুপ্রতীম সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি।


জুলাই বিপ্লব দ্বিতীয় স্বাধীনতা নয়; বরং পনের বছরের স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে বাঙালির বিশেষত জুলাই যোদ্ধাদের একটি রাজনৈতিক বিজয়।


পঞ্চান্ন বছরে পা দিচ্ছে বাংলাদেশ; অথচ দেশপ্রেম, জাতি ও জাতীয়তাবাদ এবং স্বজাত্যবোধের প্রকৃত জাগরণ এখনও হয়নি। বাঙালির মননে ও মগজে যে পঁচন জমেছে, তা দূর হবে সেদিনই যেদিন দেশপ্রেম, জাতি ও জাতীয়তাবাদ এবং স্বজাত্যবোধের জাগরণে জাতি সত্যিকার অর্থে জাগ্রত হবে।


©

Popular posts from this blog

Mental Sickness

E-learning

Imperialism VS Terrorism

At Sixes And Sevens

Bilateral Coherence and Dissonance Relationship between Western and Bangladeshi Culture

Mentalism:07

Shrewdness

Oppression upon Women Folks