বাল্যকাল ও স্বনির্ভরতা: জাপান বনাম বাংলাদেশ
বাল্যকাল ও স্বনির্ভরতা: জাপান বনাম বাংলাদেশ
শিশুরা কিভাবে প্রাপ্তবয়স্কে উত্তীর্ণ হলে স্বনির্ভর হয়ে ওঠে তা একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও পরিবারের আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার প্রায়োগিক প্রতিফলনের কতটা কার্যকর তার উপর নির্ভর করে যা জাপান ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এর ভিন্নতা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
জাপানের শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থা শিশুদের স্বনির্ভরতা গড়ে তোলার দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়। ছোটবেলায় তারা নিজের কাজ নিজে করতে শেখে, যেমন খাবার সার্ভ করা, খেলনা গুছানো বা ঘর পরিষ্কার রাখা। স্কুলে তারা দলগত কাজ, সহযোগিতা এবং নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর পায়। এর ফলে ধীরে ধীরে জাপানের শিশুদের মধ্যে আত্মনির্ভরতা তৈরি হয়। তারা নিজে সমস্যা সমাধান করতে শেখে এবং জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নিজেকে পরিচালনা করতে সক্ষম হয়। ১৮ বছর পূর্ণ হলে, এই স্বনির্ভরতা তাদের কলেজ জীবন, চাকরি এবং ব্যক্তিগত জীবনে স্বাধীনভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।
অপরদিকে, বাংলাদেশের শিশুদের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বনির্ভরতার তুলনায় নির্ভরতার দিকটি বেশি লক্ষ্য করা যায়। ছোটবেলায় শিশুদের প্রায়ই অভিভাবক বা শিক্ষক দেখাশোনা করেন, ফলে তারা নিজের কাজ নিজে করার সুযোগ কম পায়। স্কুলে পড়াশোনার ওপর বেশি জোর থাকায় স্বনির্ভরতা ধীরে ধীরে তৈরি হয়। এর ফলে অনেক সময় ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পরও তারা বড় সিদ্ধান্ত নিতে বা নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে অভ্যস্ত নয় এবং অন্যের সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল থাকে।
দেশীয় প্রেক্ষাপটে, ১৮ বছর পর্যন্ত অতিরিক্ত স্নেহ দেওয়া হয়, পরে হঠাৎ বাস্তবতার সঙ্গে মুখোমুখি হতে হয়। এতে অনেক সময় নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া বা জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে যায়। অভিভাবক ও বড় ভাইবোন প্রায়ই আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সঠিকভাবে করতে ব্যর্থ হন, ফলে সন্তানকে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে এবং সমস্যার সমাধান করতে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয় না।
এর বিপরীতে,জাপানে শিশুদের ছোটবেলা থেকে বাস্তবতার সঙ্গে পরিচয় করানো হয়। ধাপে ধাপে তারা স্বাধীন হতে শেখে এবং কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেকে টিকিয়ে রাখার ক্ষমতা অর্জন করে। ফলে প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তারা যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে আত্মবিশ্বাসী এবং সক্ষম হয়।
©দ্বীন সাঈদীন