Posts

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

 পাকিস্তান হায়নাদের দল একাত্তর সালের এই দিনে বুদ্ধিজীবীদের নির্বিচারে হত্যা করে দেশটাকে বুদ্ধিজীবী শূন্য করতে চেয়েছিল। যেসব বুদ্ধিজীবীদের রক্তের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন তাঁদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।  আমাদের দেশ স্বাধীন কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার স্বাধীনতা এই স্বাধীন দেশে জিম্মি ক্ষমতা ও রাজনীতির অদ্ভুতূড়ে ব্লেকহোলে,সুবিধাবাদী মানসিকতার চেতনার কোলে,প্রহসনমূলক আইন ও আইনের শাসনের পদতলে। বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার গতি আলোক গতির মতো তীব্র গতিসম্পন্ন। প্রগতিশীল পরিবর্তন,উৎকর্ষতা,প্রগতিশীল চেতনাকে পিঠে বহন করে আলোক গতিতে ছুটে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতিটি শিরায় শিরায় এর বিচরণ। কিন্তু একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতিটি শিরায় শিরায় যদি বিষফোড়ার বিচরণ থাকে,শহীদ বুদ্ধিজীবীদের রক্তের মূল্য কি প্রতিবছর এই দিনে পুষ্পার্ঘ্য আর অঞ্জলি দিয়েই পরিশোধ হয়ে যাবে।

প্রকৃত হিন্দুইজমের আড়ালে বিকৃতি"

 "প্রকৃত হিন্দুইজমের আড়ালে বিকৃতি" বাবরি মসজিদ নামটির সাথে জড়িয়ে আছে মোগল সম্রাট বারবের নাম, যিনি ১৫২৮ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় এটি নির্মাণ করেন। হিন্দু ধর্মীয় ও ঐতিহাসিকভাবে ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যা রামের জন্মভূমি হিসেবে পরিচিত। তাই ১৯৯২ সালে সাবেক ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী পি. ভি. নরসিমা রাও-এর সময় এ মসজিদ ধ্বংস করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট অব ইন্ডিয়া রায় প্রদান করে ২০১৯ সালে যে উক্ত স্থানে রাম মন্দির স্থাপন হবে এবং ভারতীয় মুসলিমরা মসজিদ করার আলাদা স্থান পাবেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ভারতীয় মুসলিমগণ তাদের উপাসনালয় হারিয়েছেন ১৯৯২ এর ৬ ডিসেম্বর উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের আগ্রাসনে, পশ্চিমবঙ্গ মানে কলকাতার মুর্শিদাবাদে কতিপয় ভারতীয় মুসলিমগণ যদি বাবরি মসজিদের আদলে মসজিদ নির্মাণ করতে চান এবং সাধারণ মুসলমানদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সহায়তাকে কেন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আগুনের স্কুলিঙ্গ জ্বলবে? কেন নিজ দল তৃণমূল কংগ্রেস থেকে হুমায়ুন কবিরকে বহিষ্কার করা হবে? ভারতীয় মুসলিমগণ তো অযোধ্যার জায়গা নিজেদের দাবি করে নি, তাহলে কেন এই চরমপন্থা? ভারতের অযোধ্যায় হিন্দুগণ যদি রাম ...

"প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা"

 "প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য ও শিক্ষা ব্যবস্থা" ছাত্রজীবনে যা আমাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে, তা হলো:ফেভারিটিজম, প্রায়োরিটি ভিত্তিক প্রিভিলেজ এবং অপরচুনিটি সিকিং সেটেইফাইং প্র্যাকটিস। যারা এই কৌশলগুলো ব্যবহার করতে পারে, তারা প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্গানাইজেশানাল ফাংশনগুলোর ধারক হয়।  একই ধারা লক্ষ্যণীয় যা বাস্তবতার সঙ্গে সহজেই যুক্ত করা যায়। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। কখনও কখনও একজন শিক্ষার্থী শীর্ষ স্থান অর্জন করলেও ফ্যাকাল্টিতে অবস্থান করতে পারেন না, শুধু ফেবারিটিজম বা সুযোগের অভাবের কারণে। উদাহরণ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রথম স্থানাধিকারী ড. মির্জা গালিবকে বলা যায়। ঢাকায় তাঁর মূল্য বোঝা যায়নি, কিন্তু তিনি Howard University তে শিক্ষকতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। আমাদের দেশীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় বহু অনিয়ম ও অনৈতিকতা লক্ষ্য করেছি যা আমি প্রায় নীরব দর্শকের মতো পর্যবেক্ষণ করেছি। পুরো শিক্ষাজীবনে আমি সীমাবদ্ধতা বোঝার চেষ্টা করেছি, যেখানে অস্বচ্ছতা, স্বজনপ্রীতি, তোষামোদি মানসিকতা এবং অনিয়ম স্পষ্ট...

রিসার্চ গ্যাপ ও বের করার উপায়

 রিসার্চ গ্যাপ ও বের করার উপায় Research Gap রিসার্চ গ্যাপ নতুন গবেষণার ভিত্তি নির্ধারণ করে পূর্ববর্তী গবেষণার ফাঁককে নির্ধারণ করে। সহজভাবে, পূর্ববর্তী গবেষণার সাথে বিদ্যমান গবেষণার যে গ্যাপ রয়েছে তাকেই রিসার্চ গ্যাপ বলে। সচারাচর Literature review এর মাধ্যমে রিসার্চ গ্যাপ বের করা হয়। রিসার্চ গ্যাপ একটি পেপারের প্রাণ কেননা এর উপর ভিত্তি করে রিসার্চ কোশ্চেন, অবজেক্টিভ ও হাইপোথিসিস ফরমোলেট করা হয়। তারপর রিসার্চ কোশ্চেন এর উপর ভিত্তি করে রিসার্চ মেথড সিলেকশন করে ডাটা কালেকশন করে কোশ্চেনগুলোর উত্তর ডিসকাশন সেকশনে পূর্ণতা পায়। তাই বুঝাই যায় যে রিসার্চ গ্যাপ পুরো একটি রিসার্চ পেপার লিখতে গাইড করে। গাণিতিকভাবে রিসার্চ গ্যাপকে ব্যাখ্যা ধরুন A ∩ B. ধরুন A ও B দুটি গবেষণার লিটারেচার রিভিউ সেট। A কে পূর্ববর্তী গবেষণার লিটারেচার রিভিউ সেট হিসেবে ধরে এবং B কে বিদ্যমান গবেষণার লিটারেচার রিভিউ সেট হিসেবে ধরে তারপর ইন্টারসেকশন অপারেশনে A লিটারেচার রিভিউ সেটে যে উপাদান নেই সে উপাদানের উপস্থিতি A এর সাপেক্ষে B লিটারেচার রিভিউ সেটে বিদ্যমান থাকবে তা A এর সাপেক্ষে B এর রিসার্চ গ্যাপ। ধরি, A={1,2,3,4} B=...

স্বকীয় সৃজনশীলতা বনাম বৈষয়িক স্বীকৃতি"

 "স্বকীয় সৃজনশীলতা বনাম বৈষয়িক স্বীকৃতি" বুদ্ধিবৃত্তিক চৌর্যবৃত্তি গবেষণার স্বীকৃত একটি চর্চিত বিষয়। জগদীশ চন্দ্র বসুর রেডিও তরঙ্গ ধারণাটি মার্কোনির নামে পরিচিত। মার্কোনির বুদ্ধিবৃত্তিক চৌর্যবৃত্তি প্রমাণ করে বৈষয়িক খ্যাতির মোহে এথিকাল অবক্ষয়। তেমনি, ক্যালকুলাসের একমাত্র আবিষ্কারক স্যার আইজেক নিউটন নন। গটফ্রিড লাইবনিজও ক্যালকুলাসের অন্যতম আবিষ্কারক, কারণ তিনি ডেরিভেটিভ এবং ইন্টিগ্রালের আধুনিক ধারণা প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তবে নিউটন তখন প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানী হওয়ায় ক্যালকুলাসের একক কৃতিত্ব নিজেই দাবি করেন, ফলে লাইবনিজের অবদান যথাযথভাবে স্বীকৃত হয়নি। গবেষণায় আইডিয়া জেনারেশন ও আইডিয়ার চৌর্যবৃত্তি ইতিহাস স্বীকৃত। কায়িক চৌর্যবৃত্তির জন্য আইন ও বিচার বিভাগ রয়েছে। কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক চৌর্যবৃত্তির জন্য পৃথিবীর সব দেশে, বিশেষত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে, সেভাবে আইন ও বিচার বিভাগের সংযোগ নেই। যেমন, প্রথম বিশ্বের দেশগুলো যেমন যুক্তরাষ্ট্র (আমেরিকা), যুক্তরাজ্য (ব্রিটেন), কানাডা, ইইউ (ইউরোপীয় ইউনিয়ন) অধিভুক্ত দেশগুলোতে কপিরাইট প্রিজারভেশন ও নতুন উদ্ভাবিত পণ্যের প্যাটেন্টের আইন কঠোরভাবে অনু...