স্বকীয় সৃজনশীলতা বনাম বৈষয়িক স্বীকৃতি"

 "স্বকীয় সৃজনশীলতা বনাম বৈষয়িক স্বীকৃতি"


বুদ্ধিবৃত্তিক চৌর্যবৃত্তি গবেষণার স্বীকৃত একটি চর্চিত বিষয়। জগদীশ চন্দ্র বসুর রেডিও তরঙ্গ ধারণাটি মার্কোনির নামে পরিচিত। মার্কোনির বুদ্ধিবৃত্তিক চৌর্যবৃত্তি প্রমাণ করে বৈষয়িক খ্যাতির মোহে এথিকাল অবক্ষয়।


তেমনি, ক্যালকুলাসের একমাত্র আবিষ্কারক স্যার আইজেক নিউটন নন। গটফ্রিড লাইবনিজও ক্যালকুলাসের অন্যতম আবিষ্কারক, কারণ তিনি ডেরিভেটিভ এবং ইন্টিগ্রালের আধুনিক ধারণা প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তবে নিউটন তখন প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানী হওয়ায় ক্যালকুলাসের একক কৃতিত্ব নিজেই দাবি করেন, ফলে লাইবনিজের অবদান যথাযথভাবে স্বীকৃত হয়নি।


গবেষণায় আইডিয়া জেনারেশন ও আইডিয়ার চৌর্যবৃত্তি ইতিহাস স্বীকৃত। কায়িক চৌর্যবৃত্তির জন্য আইন ও বিচার বিভাগ রয়েছে। কিন্তু বুদ্ধিবৃত্তিক চৌর্যবৃত্তির জন্য পৃথিবীর সব দেশে, বিশেষত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে, সেভাবে আইন ও বিচার বিভাগের সংযোগ নেই। যেমন, প্রথম বিশ্বের দেশগুলো যেমন যুক্তরাষ্ট্র (আমেরিকা), যুক্তরাজ্য (ব্রিটেন), কানাডা, ইইউ (ইউরোপীয় ইউনিয়ন) অধিভুক্ত দেশগুলোতে কপিরাইট প্রিজারভেশন ও নতুন উদ্ভাবিত পণ্যের প্যাটেন্টের আইন কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকান অধিভুক্ত দেশগুলোতে কপিরাইট আইন আছে, যা আনুষ্ঠানিক মাত্র।


সৃজনশীলতা ও গবেষণায় নৈতিকতা খুবই অপরিহার্য। এআই-এর যুগে এডুকেশনাল টেকনোলজির সেগমেন্টেড টুলগুলো প্লেজিয়ারিজমকে ত্বরান্বিত করে, যা প্রতিহত করতে এন্টি-আপডেটেড এডুকেশনাল টুলগুলো আপগ্রেড ও গ্লোবাল মার্কেটাইজড করে এডুকেশনাল কনজিউমার তৈরি করে, এবং ক্যাপিটালিস্ট ইডিওলজি গ্রহণ করা হচ্ছে। ফলে গ্লোবাল পাওয়ার স্ট্রাকচারাল সিস্টেম মনোপোলিস্ট হচ্ছে, যা এক ধরনের নিউটনের আধিপত্যকে প্রতিনিধিত্ব করে।


ধারণাগত চৌর্যবৃত্তিতে সর্বোচ্চ একাডেমিক এক্সিলেন্স আসবে, কিন্তু নৈতিকতার প্রশ্নে জবাবদিহি হতে হবে একজন অদৃশ্য নিয়ামকের কাছে, যার নিয়ন্ত্রণাধীন সবকিছু। তাইতো পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে: "অতএব, তোমরা মানুষকে সতর্ক করো; আল্লাহর কাছে কেউ গোপন থাকে না।" --(সূরা আল-আনআম, আয়াত ৬:৫১)


তাই বুদ্ধিবৃত্তিক চৌর্যবৃত্তির সাথে যারা জড়িত তারা বৈষয়িক কৃতিত্ব পেতে পারেন, কিন্তু স্রষ্টার দৃষ্টিতে তা গুরুতর লঙ্ঘনীয়। সৃজনশীলতায় আনন্দ তখন যেখানে স্বকীয় চিন্তা ও চেতনার ছাপ থাকে। মস্তিষ্ক যখন তথ্যগুলোকে প্রসেস করে আউটপুট হিসেবে ফলাফল প্রদান করে, সেই মস্তিষ্কের সত্ত্বাধিকারীর আইডিয়াকে নিজের নামে যোগ করলেই মার্কোনি বা নিউটন জগদীশচন্দ্র বসু বা লাইবনিজ হয়ে যাবে না; কেননা চূড়ান্ত রেজাল্টের ধারক স্রষ্টার স্প্রেডশীটে আবিষ্কারক হিসেবে নাম জগদীশচন্দ্র বসু বা লাইবনিজের নামই ইনসার্টকৃত থাকবে।


©দ্বীন সাঈদীন

Popular posts from this blog

Mental Sickness

E-learning

Imperialism VS Terrorism

At Sixes And Sevens

Bilateral Coherence and Dissonance Relationship between Western and Bangladeshi Culture

Mentalism:07

Shrewdness

Oppression upon Women Folks