প্রকৃত হিন্দুইজমের আড়ালে বিকৃতি"
"প্রকৃত হিন্দুইজমের আড়ালে বিকৃতি"
বাবরি মসজিদ নামটির সাথে জড়িয়ে আছে মোগল সম্রাট বারবের নাম, যিনি ১৫২৮ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় এটি নির্মাণ করেন। হিন্দু ধর্মীয় ও ঐতিহাসিকভাবে ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যা রামের জন্মভূমি হিসেবে পরিচিত। তাই ১৯৯২ সালে সাবেক ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী পি. ভি. নরসিমা রাও-এর সময় এ মসজিদ ধ্বংস করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট অব ইন্ডিয়া রায় প্রদান করে ২০১৯ সালে যে উক্ত স্থানে রাম মন্দির স্থাপন হবে এবং ভারতীয় মুসলিমরা মসজিদ করার আলাদা স্থান পাবেন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ভারতীয় মুসলিমগণ তাদের উপাসনালয় হারিয়েছেন ১৯৯২ এর ৬ ডিসেম্বর উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের আগ্রাসনে, পশ্চিমবঙ্গ মানে কলকাতার মুর্শিদাবাদে কতিপয় ভারতীয় মুসলিমগণ যদি বাবরি মসজিদের আদলে মসজিদ নির্মাণ করতে চান এবং সাধারণ মুসলমানদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সহায়তাকে কেন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আগুনের স্কুলিঙ্গ জ্বলবে? কেন নিজ দল তৃণমূল কংগ্রেস থেকে হুমায়ুন কবিরকে বহিষ্কার করা হবে? ভারতীয় মুসলিমগণ তো অযোধ্যার জায়গা নিজেদের দাবি করে নি, তাহলে কেন এই চরমপন্থা? ভারতের অযোধ্যায় হিন্দুগণ যদি রাম রাম জপতে পারে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের আদলে মসজিদ নির্মাণ করে আল্লাহ নাম নেওয়া কেন রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণ হবে? এটা কি চরমপন্থা নয়?
হিন্দু ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থ বেদ ঐক্য, ভারসাম্য ও বিশ্বজনীন ঐক্যের উপর জোর দেয়। তাই যারা ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভেঙেছে এবং সম্প্রীতি মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের আদলে মসজিদ নির্মাণে বাধা প্রদান করছে, তারা আসলে প্রকৃত হিন্দুত্ববাদকে অবমাননা করছে। তাদের এ চরমপন্থা ও উগ্রবাদী আচরণ প্রমাণ করে, ধর্মের নামে সন্ত্রাস যারা বিশৃঙ্খলা উস্কে দেয়।
একজন মুসলিম হিসেবে আমি বেদের প্রধান নীতিমালার উপর দৃঢ় বিশ্বাস করি, কারণ ঐক্য, ভারসাম্য ও বিশ্বজনীন শৃঙ্খলা ব্যতীত এ বিশ্ব ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়, কেননা প্রতিটি ধর্ম একই নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত।
যাইহোক, ভারত বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের হিন্দুদের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলে। এখন আমাদের ভাইরা কেন তাদের ধর্ম পালন করতে পারছে না, এর উত্তর কে দিবে?
ভারত এমন একটি দেশ যেখানে রিলিজিয়াস মাইনরিটি ম্যালট্রিটমেন্ট ব্যাপক হয়, বিশেষত সংখ্যালঘু খ্রিস্টান সহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়—মণিপুর, লাদাখ, হিমাচল, উত্তরপ্রদেশ, মুর্শিদাবাদ, কর্ণাটক, বিহারসহ আরও প্রদেশে এই রিলিজিয়াস মাইনরিটি গ্রুপগুলো।
প্রকৃতপক্ষে, হিন্দুইজমের চর্চা ভারতীয় হিন্দুগণ করেন না; তারা তাদের নিজস্ব তৈরিকৃত নিয়মে হিন্দুইজমকে রূপ দেন।
© দ্বীন সাঈদীন