হতাশা
গত সতেরো বছরে দেশকে যত বুঝার চেষ্টা করেছি ততটাই হতাশ হতে হয়েছে।
দেশীয় কোনো অধ্যাপক যদি একটি স্টেটমেন্ট দেন তার কাউন্টার আর্গুমেন্ট হিসেবে আরো তিন জন অধ্যাপক সে বিষয়ে কথা বলেন। কাউন্টার আর্গুমেন্ট দিতেই পারেন কিন্তু গঠনমূলক দিতে গিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ হয়ে যায়। এটা কি সুস্থ জাতি গঠনের পরিচায়ক? প্রশ্নের চক্রে ঘুরপাক!!!
দেশে মন্ত্রীগণের গত সাত বছরের পর্যবেক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ যেভাবে শাহবাগ, পল্টন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে 'ভুয়া' স্লোগান দেন ও ক্ষিপ্ত হন ও মিছিল ও সমাবেশ করেন –তা কি উড়িয়ে দেয়া যায় না?
'রাজাকার' শব্দের উচ্চারণগত ও অতি আত্নবিশ্বাসী ও আত্নঅহমিকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শোচনীয় পতনের মাধ্যমে যে জুলাই বিপ্লব হল তার প্রেক্ষাপটে ঐ চেতনার প্রতিফলনও লজ্জিত। উঠে এল নতুন দল ও ক্ষমতার পালাবদল। অথচ তাদের কোটামুক্ত মেধার ভিত্তিতে মেধাভিত্তিক কোন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা হবার কথা ছিল। জুলাই বিপ্লবের উপর থিসিস কপি আজও পাবলিশ করতে পারলাম না।
জনগণের উন্মাদনা যে দলকে নিয়ে শুরু হয় কিছুদিন পর আবার সে দলকে দোষ দেয়া ও শপার সংস্কৃতি প্রমাণ করে সুনাগরিকের দায়িত্বগুলো পালনে আমাদের ব্যর্থতা।
একই প্রফেশনের হয়ে একই প্রফেশনের কোনো ব্যক্তিকে পঁচানোর যে অনলাইন ফেসবুক গ্রুপ ভিত্তিক কালচারাল সিস্টেম – তা বলার অপেক্ষা রাখে না আমরা সুস্থ মানসিকতায় কতটা পিছিয়ে।
অনলাইন কমিউনিটির ব্যক্তিগত অর্জনকে (দেশের বাইরে স্কলারশিপ নিয়ে যাওয়া, সরকারি উচ্চ পদস্থ স্থান, হাই ইনডেক্সড জার্নালে পেপার পাবলিশ....) মূলধনের অংশ করে এটেনশন ইকোনোমির দাসত্ব অর্জনের চিত্র আমাদের দেশীয় অনলাইন কালচারের স্বাভাবিক চিত্র।
জেন্ডার ISSUE কে কেন্দ্র করে কাউন্টার আর্গুমেন্ট ও অনলাইন কাঁদা ছুঁড়াছুড়ি অনলাইন কমিউনিটির ও দেশীয় নামধারী কিছু আলেম সমাজের। তৃতীয় লিঙ্গ, ট্রান্সজেন্ডার নিয়ে এত মাতামাতি, তারা কি কখনো পড়েছে নিউরোসায়েন্স, এন্ডোক্রাইনোলজি? অসুস্থ সমাজে সুস্থ মানসিকতা আশা করাও চূড়ান্ত বোকামি। ইউভার্সিটি অব এশিয়া স্পেসিফিক এর অধ্যাপিকার কে যেভাবে আক্রমণ করলেন তাঁরই প্রফেশনের আরেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক –এখানেই প্রশ্ন প্রফেশনাল পারস্পরিক সম্মান কি তাঁর প্রাপ্য ছিল না!
মেয়ে শিশুদের উপর যৌন নির্যাতনের চিত্র প্রমাণ করে দেশীয় মানসিকতার সুস্থতার প্রামাণ্য দলিল!!!
উন্নয়নের জোয়ারের ইমফিনিটির আড়ালের অতীত চিত্র দেশবাসীর জানা –এমন অবস্থা দেখে দেশ কি স্বাধীনতার পঞ্চান্ন বছরেও বের হবে না? বর্তমান সরকারের কিছু উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয় বিশেষ করে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরকে যখন নাম পরিবর্তন করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর রাখা হয়েছিল তার নাম পরিবর্তন না করে সরকারি খরচ না করার সিদ্ধান্ত। দেশ এ প্রচলিত ধারা থেকে বের হয়ে আসার উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়।
দেশ কি চেতনার দিকে না তাকিয়ে মহাকাশে কিভাবে ডাটা সেন্টার প্রতিস্থাপন করবে সেদিকে কবে তাকাবে? কবে দেশ পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের পথে পা বাড়াতে দেশীয় খনিজ ও দুর্লভ খনিজের সন্ধান নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরী করে স্বঅর্থায়নে করবে?
political শিষ্ঠাচার কি বজায় থাকবে না, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কি নিরসন হবে না, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত ও আইন, শাসন ও বিচারবিভাগের পরিশুদ্ধ সক্রিয়তার সুফল কি দেশবাসী পাবে না?
দেশের পর্যটনখাতগুলো (সেন্টমার্টিন, কুয়াকাটা, জাফলং,,,,,,) কি পরিবেশ দূষনের হাত থেকে বাঁচবে না?
পলিথিনমুক্ত ও পাটজাত পণ্যের বাজারজাতকরন ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়িয়ে দেশকে কি আবার সোনালী আঁশের যুগে ফেরানো কি খুব কঠিন?
দেশীয় খাল, নদীর নাব্যতা ফেরানো কি খুব কঠিন? দেশ কি সেই আশির দশকের শহীদ মেজর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে ফিরতে পারে না, এ প্রত্যাশা কি খুব অন্যায়। খাল খনন বন্ধকরণ, সেচব্যবস্থার উন্নতি, নদীগুলোতে ড্রেসিং বন্ধকরণ ও নদী রক্ষা করে মাছের অভয়ারণ্য ফিরিয়ে সোনালী অতীতে কি দেশকে ফেরানো খুব কঠিন?
শহীদ বীর ওসমান হাদী, সাগর রুনি হত্যা, মেজর সিনহা হত্যা, ফেলানী হত্যার বিচার কি দেশের মাটিতে তাঁরা পাবে না নাকি তাঁদের শেষ বিচারের অপেক্ষায় বসে থাকা কি দেশীয় বিচার ব্যবস্থার মন্থরতাকে প্রকাশ করে না?
প্রিডেটরি জার্নালের সংস্কৃতি থেকে দেশীয় শিক্ষাব্যবস্থা কি আলোর মুখ দেখবে না?
মিডিয়ার (প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সোশ্যাল মিডিয়ার) ও সংবাদপত্রের ক্ষমতার পালাবদলের সাথে সাথে তাদের রূপ বদলানো আর কত দেখতে হবে?
এমন হতাশা নিয়েই প্রতিদিন দেশকে দেখতে হবে তাই দেশ নিয়ে আর না ভাবাই শ্রেয়।
©