"ধর্ষণ: মাদক বা পর্নোগ্রাফি নয়, সমস্যা আরও গভীর"
"ধর্ষণ: মাদক বা পর্নোগ্রাফি নয়, সমস্যা আরও গভীর"
ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধকে শুধু মাদক বা পর্নোগ্রাফির ওপর দোষ চাপিয়ে বোঝানো বাস্তবতাকে সহজভাবে দেখা হয়। মাদক ও পর্নোগ্রাফি কিছু ক্ষেত্রে খারাপ কাজ বাড়াতে প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু এগুলোই একমাত্র কারণ নয়। ধর্ষণের পেছনে রয়েছে ক্ষমতার অপব্যবহার, খারাপ মানসিকতা, বিচারহীনতা, সামাজিক অবনতি, পারিবারিক সমস্যা, নৈতিক শিক্ষার অভাব এবং দীর্ঘদিনের আইনি সমস্যা।
রাষ্ট্র যদি সত্যিই মাদক ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তাহলে শুধু কথা বলে হবে না। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, সাইবার নজরদারি, আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহিতা এবং কার্যকর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। গুগল ও মেটার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি ব্যবহারের প্রবণতা সম্পর্কিত অ্যানোনিমাইজড পরিসংখ্যান ও সেগমেন্টেড ডাটা বিশ্লেষণ করে দেখা যেতে পারে কোন বয়সের মানুষ এতে বেশি সম্পৃক্ত, এবং সেই অনুযায়ী গবেষণাভিত্তিক সমাধান নির্ধারণ করা যেতে পারে। পলিসি মেকার ও গবেষকরা এ কাজে সরকারকে সহায়তা করলে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে। একইসঙ্গে নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবাধিকারও রক্ষা করতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিচারব্যবস্থা। বছরের পর বছর ধরে অনেক ধর্ষণ মামলা অমীমাংসিত, অনেক ক্ষেত্রে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এসব নিয়ে রাষ্ট্রীয় গবেষণা প্রয়োজন। অপরাধীর ক্ষমতা যেন বিচারকে প্রভাবিত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। কেন অনেক ক্ষেত্রে বিচারপ্রক্রিয়া কার্যকরভাবে সম্পন্ন হচ্ছে না, সে বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। দেশের নাগরিক হিসেবে সরকারকে সহায়তা করা একজন সচেতন নাগরিকের পরিচয়। সুনাগরিক হতে হলে র্যাশনাল হতে হবে।
আজ সমাজে পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। শিশুদের নৈতিক শিক্ষা, নারীর প্রতি সম্মান এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা জরুরি। শুধু কঠোর শাস্তির দাবি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; অপরাধের মূল কারণগুলোও খুঁজে বের করতে হবে। শ্রদ্ধেয় আলেম সমাজকে সূরা নূরের ৩০ ও ৩১ নম্বর আয়াতের উভয় দিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু করতে হবে।
কেউ কেমিক্যাল ক্যাস্ট্রেশন সমর্থন করেন, কেউ শরিয়াভিত্তিক শাস্তির কথা বলেন। তবে যেকোনো শাস্তির আগে প্রয়োজন দ্রুত বিচার, নিশ্চিত শাস্তি এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ। দেশীয় কনটেক্সট বিবেচনায় ও ধর্মীয় শরিয়া আইন রাষ্ট্র কিভাবে কার্যকর করা যেতে পারে, সে বিষয়ে গবেষণা করে সমাধানে আসা যেতে পারে। জনগণকেও সরকার ও রাষ্ট্রকে সহায়তা করতে হবে। জনগণ ও সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টা দেশকে নিরাপদ রাখতে পারে।
ধর্ষণের মতো অপরাধ বন্ধ করতে হলে আবেগ নয়, প্রয়োজন গবেষণাভিত্তিক নীতি, শক্তিশালী বিচারব্যবস্থা, সামাজিক সংস্কার এবং নৈতিক মূল্যবোধের পুনর্গঠন। শুধু সরকারকে এককভাবে দোষারোপ না করে নাগরিক হিসেবে সরকারকে নীতিনির্ধারণে সহায়তা করা আমাদের দায়িত্ব।
© দ্বীন সাঈদীন