টাইম ডিলেশন অব জাস্টিস
টাইম ডিলেশন অব জাস্টিস
দেশে বিচারহীনতার যে বিলম্ব তা মহাজাগতিক সময়ের ব্যাস্তানুপাতিক। থিওরি অব রিলেটিভিটি এর সূত্র অনুযায়ী, কোনো বস্তুর গতি যত বাড়ে সময় তত ধীর হয় যে সূত্র মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রের জন্য প্রযোজ্য।
দেশীয় বাস্তবতায় ফেরা যাক। দেশে যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনাগুলো ঘটছে। কেন ঘটছে এটা এখন কনটেক্সট এ ব্যাকডেটেড প্রশ্ন। এ অপরাধের পেছনে ও বিচারহীনতার পেছনের বিলম্বগুলো কি কি? প্রশাসনিক কাঠামো ও প্রক্রিয়ার ধীরগতি। এখন প্রশ্ন কেন এই ধীরগতি? এ প্রশ্ন পুরো দেশীয় বিচার ব্যবস্থার বিলম্বতা ও নিষ্ক্রিয়তার পেছনের কারণগুলো অনুসন্ধান করে।
প্রযুক্তির এ সময়ে যেখানে মহাকাশে ডাটা সেন্টার প্রতিস্থাপনের জোর পরিকল্পনা চলছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কমাতে, ঠিক তখন দেশীয় বিচারব্যবস্থার পশ্চাৎপদতা এ ডিজিটালাইজেশন এর যুগে বড়ই বেমানান।
দেশীয় যৌন অপরাধের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের একটি বস্তু হিসেবে কল্পনা করুন যা দ্রুত গতিতে সমাজে বাতাসের বেগের মতো প্রবাহমান হচ্ছে, আর বিচার বিভাগের নিষ্ক্রিয়তাকে টাইম ডিলেশন হিসেবে কল্পনা করুন। দেশীয় বিচার ব্যবস্থার নিষ্ক্রিয়তা যেন ফিজিক্সের টাইম ডিলেশনের সাথে সমানুপাতিক।
দেশীয় বিচার ব্যবস্থা কেন নিষ্ক্রিয়? কেন জনগণ আস্থা হারিয়ে ফেলেন বিচার পাবেন না? দেশ গণতান্ত্রিক যেখানে জনগণের ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়। জনগণ যেখানে সকল ক্ষমতার উৎস তারা যদি বলেন "এ দেশে আপনার মেয়ে নিরাপদ না। টাকা জমান, দেশ থেকে চলে যান। এমন আবেগীয় স্টেটমেন্ট কি যুক্তিসঙ্গত?
দেশের জনগণ হিসেবে সুনাগরিকের প্রথম দায়িত্ব সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচন। আপনারা ভোট দিয়ে আপনাদের যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচন করে আবার সে ব্যবস্থার উপর দ্রুত আস্থা হারিয়ে ফেলেন। কেন? জবাবদিহিতার সংস্কৃতি যদি না থাকে তাহলে এ দেশ গণতান্ত্রিক হয় কি করে? জনগণের কি ভূমিকা নেই জবাবদিহিতামূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো গঠনের জন্য ইমোশনাল ও রেশনাল ইনটেলিজেন্স প্রয়োগ করা?
হুজুগে না চলে লজিক্যাল হবো না আমরা বাঙালিরা?
©দ্বীন সাঈদীন