ইসলাম

 "মা ও স্ত্রী: দায়িত্ব, ভারসাম্য ও নৈতিক জবাবদিহিতা"

একজন মানুষের জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মা ও স্ত্রী একে অপরের প্রতিপক্ষ নয়; বরং তারা একজন পুরুষের জীবনের দুটি ভিন্ন কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের সম্পর্ক। একজন পুরুষের কর্তব্য হলো উভয়ের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা এবং ন্যায়ের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করা।


বাস্তবতায়, একজন মানুষের সাথে তার মা বা স্ত্রী কেউই পরকালে সঙ্গী হবেন না। তাই একজন মানুষের চূড়ান্ত জবাবদিহিতা তার স্রষ্টার কাছে তার দায়িত্বপালন, নিয়ত এবং ন্যায়ের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে।


এই দৃষ্টিকোণ থেকে জীবনকে একটি নৈতিক দায়িত্বের পরীক্ষা হিসেবে দেখা যেতে পারে, যেখানে পারিবারিক সম্পর্কগুলো প্রতিযোগিতা নয়, বরং দায়িত্ব ও ভারসাম্যের একটি অংশ।

"আমি মানুষকে তার পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের উপর কষ্ট সহ্য করে গর্ভে ধারণ করেছে... (আমি নির্দেশ দিয়েছি) আমার প্রতি এবং তোমার পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। আমারই দিকে প্রত্যাবর্তন।" — সূরা লুকমান (31:14)


এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে প্রতিটি বান্দাকে তার স্রষ্টার দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে এবং মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার আল্লাহর নির্দেশ। ইহসান বা সদ্ব্যবহার করা একজন বান্দার কর্তব্য।

"তোমরা নারীদের সাথে সদ্ভাবে জীবন যাপন করো।" — সূরা আন-নিসা (4:19)


এই আয়াতে স্ত্রীর সাথে ন্যায়পরায়ণতা, সম্মান ও দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একজন পুরুষ আল্লাহর বান্দা হিসেবে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে স্রষ্টার কাছে প্রত্যাবর্তন করবে (সূরা লুকমান 31:14)।


একজন পুরুষের কাছে মা ও স্ত্রী উভয়ই আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব ও পরীক্ষার অংশ। তিনি যত বেশি ভারসাম্য, ন্যায় ও দায়িত্বশীলতার সাথে এগুলো পালন করবেন, তার নৈতিক সাফল্যের ভিত্তি ততই দৃঢ় হবে।


ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিটি মানুষ পরকালে নিজের আমল ও দায়িত্বের ভিত্তিতে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করবে। তাই মা ও স্ত্রীর সম্পর্ককে প্রতিযোগিতা হিসেবে নয়, বরং দায়িত্ব, ন্যায় এবং ভারসাম্যের একটি নৈতিক কাঠামো হিসেবে দেখা উচিত। একজন মানুষ যত বেশি ভালোবাসা, ন্যায় এবং দায়িত্বশীলতার সাথে এই সম্পর্কগুলো পালন করবে, তার জীবন তত বেশি সুশৃঙ্খল ও অর্থবহ হবে।


সমাজে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে—“মা বড় না বউ বড়?” এমন প্রশ্ন এবং কিছু সাংস্কৃতিক উপস্থাপন অনেক সময় ভুল বার্তা তৈরি করে। বাস্তবে, একজন মানুষকে উভয়ের প্রতি দায়িত্বশীল থাকতে হয়, যাতে কোনো সম্পর্কই অবহেলিত না হয়।

"আল্লাহর ইবাদত করো এবং পিতামাতা, আত্মীয়স্বজন, এতিম, অভাবগ্রস্ত, প্রতিবেশী, সঙ্গী, মুসাফিরদের সাথে সদাচরণ করো।" — সূরা আন-নিসা (4:36)


মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাকে সৃষ্টির প্রতি দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই একজন পুরুষ হিসেবে মা ও স্ত্রীর প্রতি ভারসাম্যপূর্ণ আচরণ তার স্রষ্টার আদেশ পালনেরই অংশ।


একজন মানুষের প্রকৃত সম্পর্ক হলো স্রষ্টার সাথে তার দাসত্ব এবং সৃষ্টির প্রতি তার দায়িত্ব।

সুতরাং, একজন মানুষের জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখা শুধু সামাজিক নয়, বরং একটি নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।


©দ্বীন সাঈদীন


Popular posts from this blog

Mental Sickness

E-learning

Imperialism VS Terrorism

At Sixes And Sevens

Bilateral Coherence and Dissonance Relationship between Western and Bangladeshi Culture

Mentalism:07

Shrewdness

Oppression upon Women Folks