পরিবার নামক মহাবিদ্যালয়
পরিবার নামক মহাবিদ্যালয়
রাজনীতি বোঝার জন্য পরিবার নামক আদিম প্রতিষ্ঠানটি একটি জ্ঞানের ভাণ্ডার। বৈশ্বিক রাজনীতির ভিত্তি এই পরিবার থেকেই সূচিত। এরিস্টটল যেমন মানুষকে রাজনৈতিক প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তেমনি এই রাজনৈতিক সত্তার প্রথম অনুশীলনও ঘটে পরিবারে। পরিবারের মধ্যে ক্ষমতা, নিয়ন্ত্রণ, আনুগত্য ও আবেগের যে বিন্যাস গড়ে ওঠে, তা পরবর্তীতে রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির কাঠামোয় প্রতিফলিত হয়।
পরিবারের বড় সদস্যরা যেমন আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে প্রভাব বিস্তার করে, তেমনি রাষ্ট্রও নাগরিকদের আবেগকে বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে। যেখানে পারিবারিক রাজনীতির প্রধান হাতিয়ার আবেগ, সেখানে বৈশ্বিক রাজনীতির প্রধান হাতিয়ার কৌশল। দেশীয় শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমিক সমাজবিজ্ঞান বইগুলো পরিবারকে সন্তানের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে দেখায়, কিন্তু বাস্তবে এটি এমন একটি স্থান, যেখানে অধিকাংশ দূরন্ত রাজনৈতিক প্রাণী স্বার্থের পেছনে ছুটে আবেগকে হাইপারসোনিক মিসাইলের মতো ব্যবহার করে। এই আবেগীয় ভারসাম্যহীনতার দায় চাপানো অনেকটা প্রথম বিশ্বের দেশগুলোর ভারসাম্যহীন সিদ্ধান্তের ফলে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো যে প্রভাব ভোগ করে, তার সমান। পরিবার কখনো পুরো নিরাপদ স্থান নয়; যারা তা বিশ্বাস করে, তারা তৃতীয় বিশ্বের মানুষের মতো বাস্তবতার দারিদ্র্য, নৈতিক অনিশ্চয়তা এবং স্রষ্টার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্নের মধ্যে দিয়ে জীবনযাপন করে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক স্টাডিজ, সাইকোলজি এবং দার্শনিক চিন্তার মতো সামাজিক বিজ্ঞানগুলোর বিভিন্ন ডোমেইন বোঝার জন্য পরিবার একটি কোয়ালিটিভ ল্যাবরেটরি যার মাধ্যমে ক্ষমতা, কৌশল, আবেগ ও নৈতিকতার বিষয়গুলো সূক্ষ্মভাবে দৃশ্যমান হয়।
পরিবার এমনই একটি ল্যাবরেটরি যেখানে পদার্থের চর্তুথ অবস্থা প্লাজমাকে ভাঙতে ভাঙতে নতুন দৃষ্টকোণ সামনে আসবে। পরিবার আর ডার্ক মেটার একসূত্রে গাঁথা যেখানে জানার পরিধি নতুন নতুন ক্ষেত্র খুলে দেয়। প্লাজমা যেমন তাপ ও শক্তির কারণে গ্যাসকে আয়নায়িত করে নতুন বৈদ্যুতিক ও চৌম্বকীয় আচরণ প্রকাশ করে তেমনি পরিবারও আবেগ, ভারসাম্যহীনতা, সূক্ষ্ম কৌশল ও শক্তি দ্বারা আয়নায়িত হয়ে নতুন নতুন দৃষ্টিভঙ্গির দৃশ্যমান করে যা ডার্ক মেটারের সাথে এলাইন করে।