ইসলাম
"ইসলামে লেবেলিং এবং কাফের বলা "
যাদের ইসলামের সঠিক নলেজ নেই, তারা অন্যদের কাফের বলে। ইসলামে আছে,
"যে ব্যক্তি তার ভাইকে 'হে কাফির!'বলে ডাকে, তাহলে এটা তাদের মধ্যে একটিরই সত্য — যদি সত্য না হয়, তাহলে যিনি এটা বলেছেন তার ওপরই প্রত্যাবর্তিত হবে।” — সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম
একজন নলেজেবল মুসলিম কখনো কেউ যুক্তি ব্যাখ্যা দিলে তাকে কাফের বলবে না।
ইসলাম কোনো ব্যক্তিকে যুক্তি তর্কে কাফের আখ্যা দেয় না, বরং যারা ইসলাম সম্পর্কে না জেনে, স্বল্প নলেজ নিয়ে নিজেদের মুসলিম দাবি করে, সমস্যা তাদের, ইসলামের নয়। ইসলাম যুক্তি তর্ককে উৎসাহিত করে, কেননা তা এনালিটিক্যাল ও ক্রিটিক্যাল থিংকিংকে উন্নত করে, যা দিয়ে ইসলামের নলেজের লিটারেল মিনিং খুঁজতে উৎসাহিত বোধ করা হয়।
একজন মানুষকে লেবেল বা ট্যাগ দেওয়া সহজ, কিন্তু তাকে লেবেল বা ট্যাগ দেয়ার আগে বুঝার ক্ষমতার জন্য একজন ব্যক্তির মধ্যে কগনিটিভ এবিলিটি যেমন ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং, অ্যানালিটিক্যাল স্কিল, লজিকাল রিজনিং, মেটাকগনিশন থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স ও সোশ্যাল ইন্টেলিজেন্সও থাকা প্রয়োজন।
আমরা মুসলিম কিন্তু রীতিসিদ্ধ।
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,
"তাদের মধ্যে যারা জ্ঞান রাখে, তারা ভয় পায়।" (সূরা ফাতির: 28)
যারা ইসলামের সঠিক জ্ঞান রাখে, তারা ফতোয়া, লেবেলিং, স্টেরিওটাইপের মতো একট্রিম লেবেলে যাবে না, কারণ মানুষ পৃথিবীর সবচেয়ে জটিল জীব, যাকে বুঝার একমাত্র সাধ্য মহান আল্লাহ তায়ালা।
একজন মানুষের এনাটমি কল্পনা করুন। তা সব মানুষের একরকম হলেও প্রতিটি মানুষের কগনিশন (নিউরোসায়েন্স) ও সাইকোলজি সৃষ্টির আদিলগ্ন থেকে পৃথিবী ধ্বংসের পূর্ব পর্যন্ত বৈচিত্র্য থাকবে। দেখুন, স্রষ্টার সৃষ্টির বৈচিত্র্য এখানেই, যা একজন সৃষ্টিকে তার স্রষ্টা ব্যতীত কেউ ভালো বুঝে না। তাই লেবেলিং দেয়া একটি অন্যায়।
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,
"অপরকে কলঙ্কিত করো না; একে অপরকে তিক্তভাবে ডাকো না।" (সূরা হুজুরাত: 11)
লেবেল বা অপবাদ দেওয়া সহজ, কিন্তু বোঝার চেষ্টা একজন আরেকজনকে তারাই করতে পারে, যাদের জ্ঞান, সহমর্মিতা এবং নৈতিক বোধ বিদ্যমান থাকে। যাদের ব্রেনের অ্যামিগডালা সক্রিয় প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের চেয়ে বেশি, তারা সহজেই অন্যকে কাফের বলে নিজের নলেজের সীমাবদ্ধতাকে সামনে আনে। তা ব্যক্তির সমস্যা, ইসলামের নয়।
নিউরোসায়েন্স অনুযায়ী, যাদের অ্যামিগডালা প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের তুলনায় বেশি সক্রিয়, তারা খুব আবেগপ্রবণ হয়, ফলে অন্যের মত বা যুক্তিকে সহজে গ্রহণ করতে না পেরে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং মানুষকে লেবেল দেয়। মূলত ব্যক্তির নিজস্ব জ্ঞান, উপলব্ধি ও অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতা থেকে এমন আচরণ করে, যা ব্যক্তির সমস্যা, ইসলামের নয়।
মোটের উপর, ইসলামে কাউকে কাফের বলা হারাম এবং যে ব্যক্তি বা যারা ফতোয়া, লেবেল দিয়ে থাকে, তা তাদের ইসলামিক নলেজ ও নিউরোসায়েন্স ও সাইকোলজিক্যাল সায়েন্সের সীমাবদ্ধতা নির্দেশ করে।
ধরুন, একজন মুসলিম ভাই, যিনি নবীর সুন্নাহ অনুযায়ী হয়তো দাঁড়ি রাখেন না, বা একজন মুসলিম বোন হয়তো সেভাবে পর্দা করেন না। কিন্তু যদি একজন মুসলিম ভাই, যিনি দাড়ি রাখেন, বা বোন, যিনি পর্দা করেন, তারা ঐ দাড়িহীন বা পর্দাহীন বোনকে সরাসরি কাফের বলতে পারবেন না।
"যে ব্যক্তি তার ভাইকে 'হে কাফির!'বলে ডাকে, তাহলে এটা তাদের মধ্যে একটিরই সত্য — যদি সত্য না হয়, তাহলে যিনি এটা বলেছেন তার ওপরই প্রত্যাবর্তিত হবে।" — সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম
আসুন বৈশ্বিক কনটেক্সটের দিকে তাকাই।
ইরান ও সৌদি আরব শিয়া ও সুন্নী মতবাদে আলাদা ইসলামী রাষ্ট্র, কিন্তু ইরানকে যদি কেউ বলে 'ওরা মুসলিম নয়', তাহলে প্রশ্ন আপনাদের কাছে, ইরান কি একত্ববাদী খোদার অনুসারী নন তা কি আপনি অস্বীকার করতে পারবেন? ইরান কি নবী করিম (সা.) এর আদর্শ অনুসরণ করে না?
তাহলে কিভাবে আপনি ইসলামের মূলনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন শুধুমাত্র দুটি ভিন্ন মতাদর্শের (শিয়া-সুন্নী) উপর ভিত্তি করে?
রাষ্ট্র (পলিটিকাল সায়েন্স) একটি ডোমেইন, আর ধর্ম (থিওলজিক্যাল সায়েন্স) অন্য একটি ডোমেইন। ইরান ও সৌদি আরবের তৈরি নীতি দিয়ে কিভাবে ইসলামিক নীতিকে বিচার করবেন? একটি মনুষ্যনির্মিত নীতি আরেকটি মহান আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক প্রদত্ত নীতি। এ পার্থক্য যেদিন বুঝতে পারবেন, তখন একজন মুসলিম আরেকজন মুসলিমকে কাফের বলার আগে ভয় পাবেন।
তাই শেষে বলতেই হয়:
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ
"পড়, তোমার প্রভুর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন।"
©দ্বীন সাঈদীন