পবিত্র কুরআনের সৌন্দর্য
পবিত্র কুরআনের সৌন্দর্য
কুরআন কোনো অন্তর্মিল ছন্দের কবিতা নয়। কুরআনের নির্দিষ্ট কোনো কবিতার ছন্দ নেই, যা কোনো সাধারণ ভাষায় ও ফর্মে লেখা হয়নি। কুরআনের কোনো নির্দিষ্ট ছন্দ নেই। কুরআনের ব্যাকরণ, অন্তর্গত মিল, রিদমিক প্যাটার্ন সবই বৈজ্ঞানিক। কুরআনের টার্মিনোলজি অণু ও পরমাণুর গঠনের চেয়েও বৈচিত্র্যময়। কুরআনের ফোনিম, মরফিম, সিনট্যাক্স সব সায়েন্টিফিক প্যাটার্ন অনুসরণ করে।
কুরআনের নিউমেরোলজি রহস্যময়। কোনো কবির সাধ্য নেই এমন বৈজ্ঞানিক লিঙ্গুইস্টিক প্যাটার্নে কবিতা লেখা। কুরআনের ভাষা সত্যিই বৈজ্ঞানিক।
যদি সূরা আল-বাকারার প্রথম তিনটি অক্ষর ব্যাখ্যা করা হয়, তাহলে দেখা যায় আলিফ-লাম-মিম এই তিনটি হরফ এমনভাবে যুক্ত, যার আণবিক গঠন কেমন হবে তা একমাত্র আল্লাহ তায়ালা জানেন।
আলিফ যদি একটি ফোনিম হয়, যার প্লেস অফ আর্টিকুলেশন গ্লটাল, এটি ভাওয়েল সাউন্ড।
লাম কনসোন্যান্ট সাউন্ড, প্লেস অফ আর্টিকুলেশন এলভেলার, যা দেখতে অনেকটা ওয়েভের মতো।
মিম নাসাল সাউন্ড, বাতাস নাক দিয়ে বের হয় যখন এটি আর্টিকিউলেট হয়।
আলিফ-লাম-মিমে লাম ও মিম পড়ার সময় তিন ইউনিট সম টানকে তিন আলিফ মাদ্দ বলা হয়। এই দুটি হরফ ল্যাম ও মিম এবং তিন আলিফ মাদ্দে যে আণবিক গঠন রয়েছে, তা কোন পদার্থকে ইঙ্গিত করে, তা একমাত্র আল্লাহ তায়ালা জানেন।
এ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা শুধুমাত্র মহান আল্লাহই জানেন।
আলিফ-লাম-মিমের এই তিনটি ফোনিমের সমন্বয়ে যে একটি ওয়ার্ড হয়েছে, তার নিউমেরোলজি যদি এভাবে হিসাব করা হয়: আলিফ = ১, লাম = ৩০, মিম = ৪০। এই নাম্বারগুলো যোগ করলে হয় ১ + ৩০ + ৪০ = ৭১।
৭১ একটি মৌলিক সংখ্যা, যার কোনো প্রধান গুণনীয়ক নেই। ৩০-এর প্রধান গুণনীয়ক তিনটি, তা হলো ২, ৩, ৫। ৪০-এর প্রধান গুণনীয়ক দুইটি, তা হলো ২ ও ৫। তাই ১, ৩০ ও ৪০-এর প্রধান গুণনীয়কের যোগফল পাঁচ, যা একটি বিজোড় সংখ্যা।
আবার, আলিফ-লাম-মিমের সংখ্যাকে একত্রে যোগ করলে যোগফল হয় ১ + ৩০ + ৪০ = ৭১, যাকে নিঃশেষে বিভাজ্য করা যায় না এবং যার কোনো ভাগফল নেই।
অতএব বলা যায়, আলিফ-লাম-মিমের ফোনেটিক, রিদমিক ও নিউমেরিক্যাল গঠন রহস্যময় এবং বৈজ্ঞানিক। মহান আল্লাহ বিজোড় সংখ্যা ভালোবাসেন, কারণ বিজোড় সংখ্যা এমন একটি ধ্রুবক যা অসীমকে প্রকাশ করে, আর মহান আল্লাহ সেই অসীমতার ধারক।
কে বলে স্রষ্টা নেই? কে বলে কুরআন বৈজ্ঞানিক নয়?
©দ্বীন সাঈদীন