ইসলামিক এসকেটোলজি ও আধুনিক যুদ্ধ: ইসরায়েল ও বিশ্ব রাজনীতি"

 "ইসলামিক এসকেটোলজি ও আধুনিক যুদ্ধ: ইসরায়েল ও বিশ্ব রাজনীতি"


পৃথিবীতে যত যুদ্ধই হোক না কেন, তার পেছনের প্রেক্ষাপট ধর্মের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক স্বার্থের নিয়ামক হলো এই ধর্মীয় ভাবনা। খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে মাশিহ জেরুজালেম থেকে আগমন করবেন; অনুরূপভাবে, ইহুদিরা মনে করে তাদের অতীত ঐতিহ্য এবং বিশ্বব্যাপী কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে যখন তাদের মাশিহও জেরুজালেম থেকে আসবেন।


বিশের দশকে জায়োনিজম আন্দোলনের মাধ্যমে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৪৫ সালের পর, ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম আরব–ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হয়, যেখানে মিশর, জর্ডান, সিরিয়া এবং ইরাক ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। এর ফলে ফিলিস্তিনে শরণার্থী সংকট সৃষ্টি হয়।


ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পেছনে সবচেয়ে কাছের বন্ধু ছিল ইংল্যান্ড এবং পরে ফ্রান্স। এই সম্পর্ককে ব্যবহার করে ইসরায়েল দ্বিতীয়বার মিশরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়, যার পরিপ্রেক্ষিতে মিশর সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করে। যদিও তখন মিশর ও ইসরায়েলের সম্পর্ক শত্রুতাপূর্ণ ছিল, বর্তমানে তারা সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ বন্ধু।


তৃতীয়বার, ১৯৬৭ সালের ছয়দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল মিশর, জর্ডান ও সিরিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক, পূর্ব জেরুজালেম, গাজা উপত্যকা এবং গোলান উচ্চভূমি দখল করে। পরে ইসরায়েল লেবাননের সঙ্গে বিভিন্ন যুদ্ধে জড়ায়, বিশেষ করে ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে। যদিও লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহকে নির্মূল করা, তা সম্পূর্ণ সফল হয়নি।


একইভাবে, ইসলামিক সশস্ত্র সংগঠন যেমন হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েল আমেরিকার সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করে। ২০০৭ সালে হামাসের নিয়ন্ত্রণে থাকা গাজার বিরুদ্ধে কৌশলগত অভিযান শুরু হয়। ২০২৩ সালে গাজায় ব্যাপক হামলা চালিয়ে ইসরায়েল হামাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। ২০২৫ পর্যন্ত ফিলিস্তিনের গাজায় হামাসের কার্যক্রম সীমিত করার লক্ষ্য অব্যাহত রয়েছে।


ইসরায়েল আমেরিকা এবং গালফের আরব দেশগুলোর সমর্থন নিয়ে ইমপেরিয়ালিজম ও আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। এই প্রক্রিয়ায় তারা বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ওয়ান ওয়ার্ল্ড অর্ডার রূপায়ণ করছে।


অপরদিকে, ইরান গালফের আরব দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালালেও এটি আমেরিকার আধিপত্যকে কমাতে পারবে না; বরং কেবল সাময়িকভাবে সীমিত প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। ইসলামী এসকেটোলজি অনুযায়ী, এই অবস্থার কারণে মালহামা (শেষ যুদ্ধ) অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রসারিত হচ্ছে ইসরায়েল ও আমেরিকা এবং ইরানের সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে।


ওয়ান ওয়ার্ল্ড অর্ডারকে ত্বরান্বিত করতে প্রযুক্তি নির্ভর যুদ্ধ যেমন নিউক্লিয়ার ও এটমিক প্রযুক্তি, বায়োটেকনোলজি এবং ওয়ার টেকনোলজি নিয়ন্ত্রণ অনেকাংশে আমেরিকা ও ইসরায়েলের হাতে রয়েছে। ইসরায়েলের ড্রোন, রকেট ও এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, বিশেষ করে আইরন ডোম, ইরান ও গালফের আরব দেশগুলোর তুলনায় অনেক উন্নত। ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ও সস্তা ড্রোন প্রযুক্তি আছে, তবে তারা এখন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পথে রয়েছে। অন্যদিকে, আমেরিকার নিউক্লিয়ার অস্ত্র, বায়োটেকনোলজি এবং ওয়ার টেকনোলজি-তে একক আধিপত্য রয়েছে। প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ ও সামরিক সক্ষমতায় আমেরিকা এগিয়ে, এবং ইসরায়েল তা সহায়তা করছে।


ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে আমেরিকার আধিপত্য হ্রাস করতে পারে না। ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো নিজেদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার স্বার্থে আমেরিকার ইরান আক্রমণে সক্রিয় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি কৌশলগত ইন্টেলিজেন্স। 


তবে, আমেরিকার সাময়িক থামা প্রভাবিত করতে পারে, যার ফলে ইসরায়েলও সাময়িকভাবে স্থবির হবে। তবুও মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ চলছে, তা শুধুমাত্র ইরানের সামরিক সক্ষমতা হ্রাসকরণের প্রেক্ষাপট নয়, বরং ইসরায়েল ও আমেরিকার ধর্মীয় ও সামরিক স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত।


কাফ ফা র এর চিহ্ন, এক চোখ, একমুখী বৈশ্বিক ব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত আধিপত্য বৈশ্বিক সমাজ-রাষ্ট্রীয়-অর্থ-শিক্ষা-সংস্কৃতি কাঠামোয় এককভাবে অদৃশ্য জালের মতো জড়িয়ে আছে।

কাফ ফা র মূলত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তির সঙ্গে সমান্তরালভাবে দেখা যায় যারা ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়। এ চোখ মূলত অল-সীয়িং আইকে বুঝায়, যা মূলত প্রযুক্তি নির্ভর বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা যেমন ইন্টারনেট টেকনোলজি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার টেকনোলজি, ডেটা টেকনোলজি, ডেটা সেন্টার, স্পেস টেকনোলজি সবই আমেরিকা, ইইউ অধিভুক্ত দেশগুলো ও ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। আর একমুখী বৈশ্বিক ব্যবস্থা আমেরিকা ও তার সহযোগী রাষ্ট্রগুলোর বিশ্বরাজনীতি নিয়ন্ত্রণে একক দিক স্থাপন করে, বৈশ্বিক মিডিয়া, আন্তর্জাতিক আণবিক ও পারমাণবিক সংস্থা, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিশ্ব শান্তি সংস্থায় পাশ্চাত্যদের একক নিয়ন্ত্রণে।


ইসলামিক এসকেটোলজি এর সাথে খ্রিষ্টীয় ও ইয়াহুদী মাসীহের সংযোগ উপরস্থ আলোচনার সমন্বিত রূপ।


©দ্বীন সাঈদীন

Popular posts from this blog

Mental Sickness

E-learning

Imperialism VS Terrorism

At Sixes And Sevens

Bilateral Coherence and Dissonance Relationship between Western and Bangladeshi Culture

Mentalism:07

Shrewdness

Oppression upon Women Folks