বৈশ্বিক অর্থনীতি ও শক্তির সমীকরণ"
"বৈশ্বিক অর্থনীতি ও শক্তির সমীকরণ"
একটা বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করছিলাম। বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ খাতের অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করছে রকফেলার, রথচাইল্ড ও ওয়ারবার্গ ফ্যামিলি। ভাবা যায়! তিনটি ফ্যামিলি বৈশ্বিক ব্যাংকিক ও বিনিয়োগ খাতকে প্রভাব ফেলছে।
এখানেই শেষ না। শক্তিশালী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ভেনগার্ড ও ব্লেকরগ বিশ্বের বড় বড় কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামো নিয়ন্ত্রণে ভালো ভূমিকা রাখে। আরও অবাক হই যখন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন আই এম এফ, ওয়াল্ড ব্যাংক, ফেডারেল রিজার্ভ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঋণ ব্যবস্থা অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করে।
মজার বিষয় হচ্ছে সবই ইউরোপ ও আমেরিকার। রকফেলার ফ্যামেলি, ভেনগার্ড ও ব্লেকরগ কোম্পানি, ফেডারেল রিজার্ভ সবই আমেরিকার অধিভুক্ত। আই এম এফ, ওয়াল্ড ব্যাংক এর উপর আমেরিকার প্রভাব প্রবল। রথচাইল্ড ও ওয়ারবার্গ ফ্যামিলি জার্মান বংশভূত হলেও আমেরিকার প্রভাব প্রবল।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামো আমেরিকান ও ইইউ অধিভুক্ত দেশগুলোর প্রভাব প্রবল। বিনিয়োগ, ঋণ ব্যবস্থার সব নিয়ন্ত্রণ পশ্চিমাদের হাতে। আমেরিকার একচ্ছত্র আধিপত্য মুদ্রাব্যবস্থা 'ডলার' যে দেশের কেন্দ্রীয় রিজার্ভে থাকবে সে দেশ আন্তর্জাতিক এক্সপোর্ট -ইমপোর্ট ব্যবস্থায় অগ্রাধিকার পাবে।
তবে হরমুজ প্রণালী যদি ইরান বন্ধ করে দেয় তাহলে আমেরিকার তেলের সরবরাহের অভাবে যে ঘাটতি হবে তাতে যদি ডলারের দরপতন হয় তাহলে আমেরিকান অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। ইরান যদি আমেরিকায় ইনফ্লেশনকে ত্বরান্বিত করতে পারে, ডলারের দরপতনে প্রভাব ফেলতে পারে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করে ও হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করে, আমেরিকার জনগণের জীবনমান প্রভাবিত হবে, ফলে আমেরিকান জনগণ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধ বন্ধে চাপ দিবে। ইরান যদি এভাবে স্ট্র্যাট্যাজিক ইনটেলিজেন্স বজায় রাখে এবারের ইরান -আমেরিকা-ইসরায়েল যুদ্ধ ভিন্ন বার্তা দিবে।
পশ্চিমারা অর্থনীতি ও বিনিয়োগে প্রভাব ফেললেও হরমুজ প্রণালী বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। বৈশ্বিক অর্থনীতি শুধু গ্লোবাল এস্টাবলিস্ট পাওয়ার স্ট্রাকচারাল সিস্টেম দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয় না, ভৌগোলিক রাজনৈতিক শক্তি ও সামরিক শক্তির দ্বারা প্রভাবিত।
©দ্বীন সাঈদীন