মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বিভাজন: মুসলিম উম্মাহর পতন"

 "মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বিভাজন: মুসলিম

উম্মাহর পতন"


ইরান একা যুদ্ধ করে গেল আর রাশিয়া ও চীন আমেরিকা ও ইসরায়েলের শুধু নিন্দা প্রকাশ করে আর জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করল। কেন রাশিয়া ও চীন সরাসরি ইরানের হয়ে আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করল না, কেনবা যুদ্ধের জন্য সামরিক সহায়তা চীন ও রাশিয়া হতে আসেনি?


প্রথমত বৃহৎ শক্তির সাথে সংঘাতে জড়াতে রাশিয়া ও চীন চাইবে না কেননা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বেজে যাবে। দ্বিতীয়ত রাশিয়া ও চীন কৌশলগত বন্ধুত্ব বজায় রেখেছে ইরানের সাথে। ইরানের সাথে সামরিক জোট করে যুদ্ধে জড়াতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এক ধরনের প্রক্সি সম্পর্ক। তৃতীয়ত রাশিয়া ২০২২ সাল থেকে ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ সহ্য করছে আমেরিকার আর সরাসরি সংঘাতে যাওয়া মানে নিজের পায়ে নিজে কোরাল দেয়া। আর চীন পৃথিবীর অন্যতম রপ্তানিকারক দেশ যার বাজার আমেরিকা ও ইউরোপ। তাহলে চীন কি চাইবে দেশীয় অর্থনীতি ঝুঁকিতে ফেলতে?


অন্যদিকে আরব রাষ্ট্রগুলো আমেরিকা ও ইসরায়েলকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দিয়ে ইরানে হামলা চালানোর বৈধতা দেয়,অথচ ইরান যখন ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালায় তখন আরব রাষ্ট্রগুলো তাদের নিরাপত্তার অজুহাতে আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়ে ইসরায়েল ও আমেরিকাকে নীরবে সমর্থন জানায়। সৌদি যুবরাজ প্রিন্স সালমান আমেরিকাকে ইন্ধন যুগায় ইরানে আক্রমণের কিন্তু উপরে ইরানের পাশে থাকার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেঈমানী করে। গালফ অঞ্চলের মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর চূড়ান্ত বেইমানি বারবার প্রমাণ করে মুসলিম উম্মাহ বিচ্ছিন্ন।


ইরাক,সিরিয়া,লেবানন ও ইয়েমেনে ইরানের আঞ্চলিক আধিপত্য বেশি থাকায় গালফ অঞ্চলের আরব রাষ্ট্রগুলোর আমেরিকার নিরাপত্তা বলয়ে প্রশান্তি খুঁজে পায়। নিজের ভাতৃত্বকে গলা টিপে হত্যা করে সৌদি আরব, আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, মিশর আমেরিকার ছায়ায় তারা নিরাপদ ও স্বস্তি অনুভব করে।


ইসরায়েল যখন ফিলিস্তিনের উপর পাশবিকতা চালিয়ে ক্ষান্ত হয় তখন মিশরের প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলের সাথে অর্থনৈতিক চুক্তি করে। সৌদি আরবের প্রিন্সের সাথে আমেরিকার ট্রাম্পের কূটনীতিক সম্পর্ক আরো জোরদার হয়।


মহানবী বলেছেন: "তোমরা মুমিনগণ পরস্পরের জন্য একটি গাঁথুনির মতো; যার এক অংশ অন্য অংশকে শক্তিশালী করে।"


সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম গ্রন্থে যে কথা স্পষ্ট গালফ অঞ্চলের মুসলিম রাষ্ট্রগুলো সে আদর্শ থেকে দূরে সরে আমেরিকার ছায়ায় তারা অর্থনৈতিক, সামরিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা খুঁজে নিজেদের মাটিতে মার্কিন ঘাঁটি করার সুযোগ দিয়ে আমেরিকার আধিপত্যবাদের কাঠামো গড়ে দিয়ে মুসলিম উম্মাহর ভিত্তিকে দুর্বল করে ইসলামকে অবনমিত করছে, মহানবীর আদর্শকে অবনমিত করছে।


কেন গালফ অঞ্চলের মুসলিম রাষ্ট্রগুলো ও ইরান একে অপরের শত্রু? মতাদর্শিক,রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের কাঠামোগত পার্থক্য,নেতৃত্বগত বৈচিত্র্যের কারণে 'মুসলিম উম্মাহ ' হেয় হয়। ইরান নিজেকে ইসলামী বিপ্লবী ও শিয়া মতাদর্শের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে গালফ অঞ্চলের মুসলিম রাষ্ট্রগুলো রাজতন্ত্র (আমেরিকার সহায়তায় এর ভিত্তি), ও সুন্নী মতবাদের হওয়ায় ইসলামী নেতৃত্বে বিভাজন এসেছে। আর মুসলিম উম্মাহ এ বিভাজনে চাপা পড়ে ইসলামের সৌন্দর্য হারিয়ে যায়।


©দ্বীন সাঈদীন

Popular posts from this blog

Mental Sickness

E-learning

Imperialism VS Terrorism

At Sixes And Sevens

Bilateral Coherence and Dissonance Relationship between Western and Bangladeshi Culture

Mentalism:07

Shrewdness

Oppression upon Women Folks