নারী-পুরুষের সংঘাত"
"নারী-পুরুষের সংঘাত"
পৃথিবীতে নারী-পুরুষের সংঘাত মূলত সমাজসৃষ্ট। বিশেষ করে পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্ত রাখার এবং লিঙ্গভিত্তিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য এই সংঘাত ইচ্ছাকৃতভাবে উৎপাদন ও পুনরায় পুনরুৎপাদন করা হয়। এ সংঘাত বিশেষত স্পষ্ট হয়ে দেখা দেয় কিছু নির্দিষ্ট সময় ও পরিস্থিতিতে।
দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় কর্মজীবী নারীদের পতিতা বলে সম্বোধন করা কোনো শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির মন্তব্য এই প্রেক্ষাপটের উদাহরণ।
"আল্লাহ তোমাদের একে অপরের থেকে যা দিয়েছেন তা চাও না; পুরুষের জন্যও অংশ, নারীর জন্যও অংশ নির্ধারিত।"
–সুরা আন-নিসা ৪:৩২
সাহিহ মুসলিম, আবু দাউদ ও আহমাদে বর্ণিত,
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, তাঁর মায়ের বোন দেরাদুনের খেজুরের ক্ষেতে কাজ করতে চেয়েছিলেন। এক পুরুষ বলেছেন, তিনি এটা করতে পারবেন না। কিন্তু নবী করিম (সা.) বলেন–
"হ্যাঁ, তুমি বের হয়ে খেজুর কাটতে যাবে; হয়তো তুমি দান করবে বা কিছু ভালো কাজ করবে।"
ইসলাম আমাদের মা-বোনদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিয়েছে, যা পবিত্র কুরআনের আয়াত ও হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
দেশীয় রাজনৈতিক বাস্তবতায় কর্মজীবী নারীদের পতিতা বলা ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম। সূরা আল-হুজুরাত এ বিষয়ে প্রমাণ দিয়েছে–
"মিথ্যা, সন্দেহজনক কথায় লিপ্ত হয়ে একে অপরকে ক্ষতি করা হারাম।"
–সুরা আল-হুজুরাত ৪:১২
সুরা আন-নূর ২৪:১৯ নম্বর আয়াতে মিথ্যা অপবাদ ও লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে স্পষ্ট সতর্কতা দেয়া হয়েছে–
"যদি কেউ নারীর বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলে, তাহলে তার শাস্তি আছে। আর যিনি আল্লাহর পথে সত্য প্রকাশ করেন, তার জন্য মুক্তি ও মর্যাদা রয়েছে।"
মা-বোনদের প্রতি অনুরোধ–ইসলাম ও সহিহ হাদিস নিজে পড়ুন। গুজব ও প্রোপাগান্ডার পেছনে না ছুটে, জ্ঞান ও ইলমের আলোয় সত্য যাচাই করুন। আপনাদেরকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হবে, কিন্তু প্রভাবিত হবেন কি না, তা আপনার জ্ঞানের পরিচয়।ভুল হলে মার্জনা করবেন।
© দ্বীন সাঈদীন