তাইওয়ান ইস্যুতে বিশ্ব শক্তিধর দেশগুলোর বিভাজন

 তাইওয়ান ইস্যুতে বিশ্ব শক্তিধর দেশগুলোর বিভাজন 


তাইওয়ান একটি স্বশাসিত অঞ্চল, যা বাস্তবে নিজস্ব প্রশাসন ও অর্থনৈতিক কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি উৎপাদনে তাইওয়ান বর্তমানে বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। উন্নত চিপ উৎপাদনের ক্ষেত্রে অ্যাপল, এএমডি, কোয়ালকমসহ বহু শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানি তাইওয়ানের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।


এই প্রযুক্তিগত আধিপত্যই তাইওয়ানকে বৈশ্বিক ভূরাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। অন্যদিকে, চীন তার সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব থেকে তাইওয়ানের ওপর দাবি বজায় রেখেছে এবং এ অবস্থানে অনড় রয়েছে। চীনের এই অবস্থানকে পরোক্ষভাবে ইন্ধন জোগাচ্ছে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া।


বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাইওয়ানের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে মূলত তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য। বৈশ্বিক প্রযুক্তি সরবরাহ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাইওয়ানের নিরাপত্তা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাইওয়ানকে সামরিক সহায়তা ও সমরাস্ত্র সরবরাহে আগ্রহী।


একটি অঞ্চলকে নিজস্ব ইখতিয়ারে রাখার প্রশ্নে তাইওয়ান ইস্যুতে বিশ্বশক্তিধর উন্নত দেশগুলো কার্যত দুই মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।


বিশ্বায়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি যতই এগিয়ে যাক না কেন, সাম্রাজ্যবাদী ও শোষণমূলক মানসিকতা থেকে উন্নত রাষ্ট্রগুলো এখনো পুরোপুরি বের হয়ে আসতে পারেনি। সে কারণেই হয়তো শোষণহীন ও বৈষম্যমুক্ত একটি বিশ্বব্যবস্থা আজও অনেকাংশে একটি দিবাস্বপ্ন হয়েই রয়ে গেছে।


©

Popular posts from this blog

Mental Sickness

E-learning

Imperialism VS Terrorism

At Sixes And Sevens

Bilateral Coherence and Dissonance Relationship between Western and Bangladeshi Culture

Mentalism:07

Shrewdness

Oppression upon Women Folks