ইসলাম

 "হে মুমিনগণ! তোমরা এমন সব ব্যাপারে প্রশ্ন করো না, যা যদি তোমাদের প্রকাশ করা হয় তবে তা তোমাদের জন্য কষ্টকর হবে। আর যদি কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময় সে সম্পর্কে প্রশ্ন করো, তবে তা তোমাদের জানিয়ে দেওয়া হবে। আল্লাহ তা ক্ষমা করেছেন, আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, সহনশীল।তোমাদের আগে এক সম্প্রদায় (বনু ইসরাইল) এ ধরনের প্রশ্ন করেছিল, পরে তারা তা অস্বীকারকারী হয়ে গিয়েছিল।"----সূরা আল-মায়েদা ৫:১০১-১০২)


মহান আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞানী। একজন মুসলিম হিসেবে সেটা বিশ্বাস করি। কিন্তু মহান আল্লাহ তাআলার বান্দাদের ঈমানী পরীক্ষা করতে গিয়ে কেন ফিলিস্তিনের শিশুরা প্রাণ হারাবে?


মুসলিম অধিকাংশ দেশ আমেরিকার গোলামি করছে অন্যদিকে ইসরায়েলের সাথে কূটনীতিক ও অর্থনৈতিক বন্ধুত্ব অটুট রেখে ফিলিস্তিনীদের রক্তের বন্যা বইছে। এই আরবীয় পাপীদের স্বাধীন ইচ্ছার চর্চার অদৃশ্য প্রভাব কেন ফিলিস্তিনের ঈমান পরীক্ষা দিতে হচ্ছে?


হামাসের উপর প্রতিশোত নিতে গিয়ে নিরপরাধ শিশুরা কেন মরবে। ফিলিস্তিনী শিশুরা তো এমন নিয়ত করেনি যে তাদের এটা ভোগ করতে হবে।


"নিশ্চয়ই কাজসমূহ নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক মানুষের জন্য থাকবে তাই, যা সে নিয়ত করেছে।"---(সহিহ বুখারি ও মুসলিম)


তাহলে ওরা তো এমন নিয়ত করেনি যে ওদের এ শাস্তি ভোগ করতে হবে।


স্রষ্টার স্বাধীন ইচ্ছার উপর প্রশ্ন করা ঔদ্ধত্যতা। হয়তো নাস্তিক হিসেবে গণ্য করতে পারে। এই নিরপরাধ শিশুগুলোর কি অপরাধ?


এটা মহান আল্লাহ তাআলার ইচ্ছে মাফিক হয়। কেন সাতটি দোযখ ও আটটি বেহেশত! মহান আল্লাহ তায়ালা যদি চাইতেন তিনি এ বৈষম্য দূর করতে পারতেন যিনি এত পরাক্রমশালী।


"নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, যিনি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর আরশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।"--সূরা আল-আ’রাফ (৭:৫৪)


মহান আল্লাহ তায়ালা কাকে হিদায়ত দান করবেন আর কাকে করবেন না এটাও তিনি নির্ধারণ করেন যা সূরা আল আনআমে স্পষ্ট উল্লেখ আছে।


"তাঁরই ইচ্ছা অনুযায়ী তিনি হিদায়েত দেন, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করতে চান, তাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন।''---সূরা আল-অনআম


একজন মুসলিম হিসেবে এখানেই আপত্তি কেন আল্লাহ তায়ালা সবার ভালো করেন না। আবার প্রশ্ন আসতে পারে আল্লাহ তায়ালা মানুষকে বিবেক বুদ্ধি দিয়েছেন আর পৃথিবীকে করছেন পরীক্ষাক্ষেত্র বান্দাদের জন্য।


তাহলে হযরত উমর রা একসময় কালীপূজা করতেন, প্রিয় নবী স কে মারতে গিয়ে হিদায়ত প্রাপ্ত হন তাহলে ঐ সময় আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগে আবু জাহেল কেন হিদায়ত প্রাপ্ত হতে পারেননি এখানেই প্রশ্ন।


"তাঁরই ইচ্ছা অনুযায়ী তিনি হিদায়েত দেন, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করতে চান, তাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন।''---সূরা আল-অনআম


স্রষ্টার স্বাধীন ইচ্ছাকে প্রশ্ন করা ঔদ্ধত্যতা। স্রষ্টা বৈষম্য করেন তা স্পষ্ট। তবে এটাও সত্য যারা ইহকালে কষ্ট ভোগ করবে পরকালে অসীম আনন্দ ও শান্তি ভোগ করবে। তাই বলা হয়েছে,

"যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, তাদের জন্য রয়েছে উদ্যান, যার তলায় নদী বয়ে চলবে, সেখানে তারা চিরকাল থাকবেই, এবং তারা সেখানে সুখী ও শান্তিতে থাকবেন।"---সূরা আল-বাকারা (২:২৫)


আমরা স্রষ্টার অধীন। অধীনরা কখনো তার স্রষ্টাকে প্রশ্ন করতে পারে না কারণ মহান আল্লাহ তাআলা সর্বশক্তিমান। আর আমরা সৃষ্টি হয়েছি ক্ষুদ্র পরমাণু থেকে। সূরা আল মুমিনুন এ আছে,

"আমি মানুষকে মাটির মিশ্রণ থেকে সৃষ্টি করেছি। তারপর একটি স্ফটিকাকৃতির স্ফটিক (নির্দিষ্ট আকার) বানিয়ে, তারপর তাকে একটি রক্তের ফোঁটা বানিয়েছি। তারপর সেখান থেকে আমরা তাকে অন্যভাবে গঠন করেছি এবং এমনভাবে সৃষ্টি করেছি যেন সবকিছু সুসজ্জিত।"---সূরা আল-মুমিনুন (২৩:১২-১৪)


ইনফেরিয়র হয়ে সুপেরিয়রকে প্রশ্ন করা মানে নিজের অস্তিত্বের হুমকি। অবাধ্য জাতি ইসরায়েল আল্লাহ তায়ালা প্রশ্ন করে হয়েছে অস্বীকারকারী বা নাস্তিক। এটাও সত্য মহান আল্লাহ তাআলার জানার সীমা আমাদের কল্পনার বাইরে তাইতো ডার্ক এনার্জির রহস্য উন্মোচন এখনো বিঙ্গানীরা করতে পারেন নি। আমাদের জানার সীমাবদ্ধতার রেখা আছে তার সীমা লঙ্ঘন করলেই নাস্তিক হতে হয়।


সর্বশেষ কথা এই যে সমাজে যেমন বৈষম্য থাকে,শ্রেণিভেদ থাকে,সীমাবদ্ধতা থাকে ঠিক তেমনি স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে এই সুপেরিয়র বনাম ইনফেরিয়র সম্পর্ক ও স্রষ্টার স্বাধীন ইচ্ছার উপর ভিত্তি করে যে পার্থিব বৈষম্য স্রষ্টা নিরপরাধ ফিলিস্তিন শিশুদের ভোগাচ্ছেন সেই ভোগানোর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ফিলিস্তিনি শিশুরা পাবে পরকালীন জান্নাত যা স্রষ্টার স্বাধীন ইচ্ছার প্রতিফলন।


 "নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনকিছুর উপর অন্যায় করেন না, যদিও সে যদি কণার অংশও হয়। আর যদি কেউ সৎকর্ম করে, তিনি তার জন্য দশগুণ বা আরও বেশি প্রতিদান দেন।"---সুরা আন-নিসা (৪:৪০)


কুরআনের আয়াত স্পষ্ট জানান দিচ্ছে ফিলিস্তিনি শিশুরা পরকালে জান্নাত পাবে। কিন্তু স্রষ্টা তাঁর বান্দার ধৈর্য ও ইমান পরীক্ষা নিতে গিয়ে তাঁর স্বাধীন ইচ্ছার পার্থিব প্রয়োগে যে পার্থিব মানবিক বির্পযয় ও বৈষম্য সৃষ্টি হয় (যেমন ফিলিস্তিন) তার ক্ষতিপূরণ স্বরূপ পরকালীন জান্নাত। এটা মানতেই হবে আমরা তাঁর খেলার অংশ, তিনি আমাদের নিয়ে যেভাবে খেলছেন আমরা সেভাবেই পারফর্ম করছি। পবিত্র কুরআনের আয়াতের ব্যাখ্যায় এটা স্পষ্ট তিনি বৈষম্য করেন না কারণ ইহকালীন বৈষম্য পরকালীন জান্নাত দিয়ে সেই শূন্যতা পূরণ করেন কিন্তু ইহকালীন যে সাময়িক বৈষম্য হচ্ছে, মুসলিমরা কষ্টে আছে তাই বাহ্যিক ও আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় স্রষ্টা হয়তো ঘুমিয়ে আছে।

Popular posts from this blog

Mental Sickness

E-learning

Imperialism VS Terrorism

At Sixes And Sevens

Bilateral Coherence and Dissonance Relationship between Western and Bangladeshi Culture

Mentalism:07

Shrewdness

Oppression upon Women Folks