ক্রসডিসিপ্লিনারী এপ্রোজ: অতীত নলেজের রিইউজ ও ইন্টিগ্রেশন
ক্রসডিসিপ্লিনারী এপ্রোজ: অতীত নলেজের রিইউজ ও ইন্টিগ্রেশন
আমরা বর্তমান সময়ে ক্রসডিসিপ্লিনারী এপ্রোজে গবেষণা করাকে সাফল্য হিসেবে দেখি। নিজের সমালোচনার মধ্য দিয়ে শুরু করি। যখন আমি আমার থিসিসে মনোবিজ্ঞান, পলিটিকাল সায়েন্স, সতেরো শতকের সাহিত্যিক টেক্সট এবং জুলাই বিপ্লবকে এক ফ্রেমওয়ার্কে নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছিলাম, মনে হয়েছিল হয়তো আমি কিছু নতুন করছি। কিন্তু ধারণাটা ভুল। কারণ, পূর্বে ন্যাচারাল সায়েন্স ও সোশ্যাল সায়েন্স একত্রে বিবেচিত হত। সময়ের পরিক্রমায় এগুলো আলাদা আলাদা সাবজেক্টে ভাগ হয়ে যায়। প্রাচীন ও মধ্যযুগে ন্যাচারাল এবং সোশ্যাল সায়েন্সকে স্বতন্ত্র সাবজেক্ট হিসেবে দেখা হতো না, কিন্তু বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের পর এগুলো আলাদা সেগমেন্টে বিভক্ত হয়। আমরা বর্তমানে আবার অতীত ও মধ্যযুগের দিকে ফিরে যাচ্ছি। আসলে আমরা নতুন কিছু ‘উত্পাদন’ করছি না; বরং রিক্রিয়েশন এবং ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে পুরোনো ধারাকে পুনর্ব্যবহার করছি।
একইভাবে, আরেকটি অসমাপ্ত কাজও আছে, যেখানে আমি ন্যাচারাল এবং সোশ্যাল সায়েন্সের ইন্টিগ্রেশন করতে চেয়েছিলাম। বায়োলজি, জেন্ডার স্টাডিজ এবং শেক্সপিয়ারকে একত্রিত করে ক্রসডিসিপ্লিনারী এপ্রোজে মিক্সড মেথডে কাজ করার চেষ্টা করেছি। ঘুরেফিরে দেখা যায়, আমরা অতীত জ্ঞানের ধারাকেই অনুশীলন করছি। এবং আমরা সেই অনুশীলনকেই কৃতিত্ব মনে করছি।
ধরুন, পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বে সকল পদার্থ একবিন্দুতে কেন্দ্রীভূত ছিল, কিন্তু বিগ ব্যাংয়ের মাধ্যমে সবকিছু সম্প্রসারিত হয়ে মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়। এখন, ন্যাচারাল এবং সোশ্যাল সায়েন্সের ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে আমরা আবার সেই মহাবিশ্বকে একবিন্দুতে কেন্দ্রীভূত করার চেষ্টা করছি, যার নাম দিয়েছি ক্রসডিসিপ্লিনারী এপ্রোজ।
টি. এস. ইলিয়টের ট্রেডিশন এবং ইনডিভিজুয়াল ট্যালেন্ট এর মধ্যে যে যোগসাজশের কথা বলা হয়েছিল, আমরা তা করার বদলে অতীত জ্ঞানের ধারাকে ফলো করছি। যেখানে স্বতন্ত্রতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, আমরা আধুনিক যুগের প্রতিনিধি হলেও অতীত জ্ঞানের ধারাকে অনুশীলন করছি। এটি সৃষ্টি করছে স্বতন্ত্রতাবোধ এবং স্বতন্ত্র ইন্টেলেকচুয়ালিটির একটি প্যারাডক্স।