মিমিক্রি, দাসত্ব,ধর্ম :পশ্চিমাদের কনসেপ্ট ও আমাদের অনুকরণপ্রিয়তা
মিমিক্রি, দাসত্ব,ধর্ম :পশ্চিমাদের কনসেপ্ট ও আমাদের অনুকরণপ্রিয়তা
আমাকে সবচেয়ে বেশি ভাবায় জেন্ডার স্টাডিজ, কোয়ার থিওরী, জেন্ডার ইকুয়ালিটি ও ইকুইটি এই কনসেপ্টগুলো। ড.সারোয়ার হোসেন স্যার সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছেন বাংলাদেশের কনটেক্সট থেকে এই ভুয়া এল জি বিটি কিউ, ট্রান্সজেন্ডার এর বিরুদ্ধে ইসলামের আলোকে।
বর্তমান একাডেমিক ডিসকোর্সে জেন্ডার স্টাডিজ, কোয়ার থিওরী, জেন্ডার ইকুয়ালিটি ও ইকুইটি এই কনসেপ্টগুলো ইলুমিনাতিদের বানানো ধোঁকাবাজি কনসেপ্ট। এগুলো পরিবার ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে টুকরো টুকরো করার পশ্চিমা কালচারাল কলোনিয়াল তত্ত্ব। এগুলো সমাজের স্থিত উপাদানগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে সমাজে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অন্যতম হাতিয়ার।
পশ্চিমা সমাজ কাঠামোতে এ উপাদানগুলো স্থিতিশীল হলেও, এশিয়ান সমাজকাঠামো ও ধর্মীয় স্ট্রাকচার ভাঙতে জেন্ডার স্টাডিজ, কোয়ার থিওরী, জেন্ডার ইকুয়ালিটি ও ইকুইটি নামক তাপ ও চাপ ব্যবহার করে এশীয়দের মগজ ও মনন পশ্চিমারা হ্যাক করে। আর হ্যাক হয়ে এসব তত্ত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় পড়াশোনা ও গবেষণার বিষয় হয় এভাবে এশীয়রা নিউ এডুকেশনাল কলোনিয়ালিজমের অংশ হয়।
এসব তত্ত্বগুলো ধর্মীয় কাঠামোর পরিপন্থী যা ধর্মনিরপেক্ষ সমাজব্যবস্থার ইঙ্গিত দেয়।
পশ্চিমারা কনসেপ্ট তৈরি করবে, এশীয়রা এগুলো নিয়ে গবেষণা করে সেক্সচুয়ালিটি ও জেন্ডারকে হোমি,ফেনন,নন্দী,স্পিভাক,সাঈদের তত্ত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করে পেপার করে এলসিভার,সেজ,স্প্রিংগার, ক্রেমব্রিজ পাবলিকেশনের অধীন হাই ইনডেক্সড জার্নালগুলোতে পেপার পাবলিশ করে নিউ এডুকেশনাল কলোনাইস্ট হয়ে পশ্চিমাদের দাসত্ব করতে করতে হয়তো ইমাম মাহদি, ঈসা নবীর আগমনের সময় চলে আসবে। তার আগে এই দাসত্বের আণবিক শৃঙ্খল হতে বের হতে পারবে না কারণ বৈশ্বিক কাঠামো ভিত্তি পশ্চিমাদের হাতে। স্বকীয়তা ও স্বাজাত্যবোধের যেখানে অভাব মিমিক্রি হতেই থাকবে।
হোমি,ফেনন,নন্দী,স্পিভাক,সাঈদের এদের তত্ত্বের উপর বেস করে বিভিন্ন টেক্টকে কাঁটাছেড়া করে পোস্টকলোনিয়াল স্টাডি করছে। আদৌ তা কতটুকু পোস্টকলোনিয়াল স্টাডি হচ্ছে তা সময়ের দাবি?
চার বছর বেচেলর অব লিটারেচার পড়ে প্রশ্ন আদৌ কি নতুন নলেজ প্রোডাকশন হচ্ছে নাকি রিক্রিয়েট হচ্ছে? নলেজ রিক্রিয়েশন আর প্রডাকশনের স্ট্রাকচারার অথোরিটি পশ্চিমারাও সাবজেক্টেট এশীয়, আফ্রিকান,ওশেনিয়ানরা।
এ নিয়ে যদি লেখা শুরু হয় হানড্রেড পারসেন্ট আমেরিকা ও ইইউ প্রথম ব্যালাস্টিক ক্ষেপনাস্ত্র গবেষকের উপর ছুঁড়বে। যারা ডাটা কলোনিয়ালিজম নিয়ে গবেষণা করছেন কম বেশি তারা কিন্তু পশ্চিমা থিওরীস্টদের থিওরির আলোকেই ব্যাখ্যা করছেন। এশীয়দের নিজস্ব তত্ত্ব দিয়ে নয়। তাই নলেজ রিপ্রোডাকশন হচ্ছে আর ডিকলোনাইজড ডিসকোর্সের চর্চার বদলে নিউ কলোনিয়ালিজমেরই চর্চা হচ্ছে।
পশ্চিমাদের লেন্স দিয়ে শিক্ষার কাঠামো, গবেষণার কাঠামো, নলেজ রিক্রিয়েশনের যে মহাসমারোহ চলছে হয়তো একমাত্র তা স্রষ্টার পক্ষেই বন্ধ করা সম্ভব কারণ তিনি সময় দিয়েছেন পশ্চিমাদের বিশ্ব রাজনীতি-অর্থনীতি -প্রযুক্তি -শিক্ষা-সমর-বার্নিজ্যিকভাবে বিশ্ববাসীর উপর রাজত্ব করবার হোক তা ইলুমিনাতির মাধ্যমে নয়তো ডিপ্লোমেটিক ইনটেলিজেন্সকে কাজে লাগিয়ে।
দ্বীন সাঈদীন