Posts

Religion

 হযরত উমর রা একসময় নবী সা কে হত্যা করতে তরবারি নিয়ে বের হন, কিন্তু কুরআনের আয়াত শুনে তার হৃদয় পরিবর্তিত হয় এবং তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। আস্তিকতা ও নাস্তিকতার পার্থক্য সবচেয়ে ভালো বোঝেন তারা, যারা এই মহান মনীষীদের মতো নাস্তিকতা থেকে আস্তিকতার পথে ধাবিত হন। তারা উপলব্ধি করেন যে তারা অসীম জ্ঞানের ধারক, এক ঈশ্বরবাদী খোদার উপাসক। জ্ঞানের তৃষ্ণা তাদের নবী করিম সা থেকে ইবনে সিনা, ইবনে হাইয়ান, ইবনে রাজী, ওমর খৈয়াম ও ড. জাকির নায়েকের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে প্রেরণা দেয়। যদি এমন মানুষকে কোনো স্ন্যাক আইল্যান্ডে ছেড়ে দেওয়া হয়, তারা হয়তো বিমোহিত হবেন স্রষ্টার সৃষ্টির বৈচিত্র্য দেখে, কিন্তু ভীত হবেন না কারণ তাদের জ্ঞানের তৃষ্ণা ও ঈশ্বরপ্রেমই তাদের অটল রাখে।

ইসলামী বিধান বনাম রাষ্ট্রীয় আইনের ফাঁক ও মুসলিমদের পশ্চিমা দাসত্ব সংস্কৃতি"

 "ইসলামী বিধান বনাম রাষ্ট্রীয় আইনের ফাঁক ও মুসলিমদের পশ্চিমা দাসত্ব সংস্কৃতি" ইরানের মাশা আমানির কথা হয়তো অনেকের মনে আছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ঘটা ঘটনাটি পুরো বিশ্বে আলোড়ন তুলেছিল। আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সময় এ ঘটনা ঘটেছিল। ইরানে নারীদের কপাল ও শরীরের অংশ ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক; কিন্তু মেয়েটি তা করেনি, এবং পুলিশ তাকে "হিজাব শিক্ষা ক্লাস"-এর কথা বলে গ্রেফতার করে মারধর করে। পরবর্তীতে সে মৃত্যুবরণ করে। ইসলাম কি বলে–বাধ্যতামূলকভাবে কি কাউকে ধর্মের দিকে আকৃষ্ট করা যায়? পবিত্র কুরআন কি বলে? আসুন দেখি।  সূরা বাকারার ২:২৫৬ আয়াতে বলা হয়েছে: "ধর্মে কোনো জোর বা বাধ্যবাধকতা নেই; সত্যতা স্পষ্টভাবে মিথ্যা থেকে আলাদা। যে বিশ্বাস করে এবং ন্যায়পথে চলে, সে সঠিক পথে আছে।" ধর্মে কোনো জোর বা বাধ্যবাধকতা নেই।  ইসলামের মূলনীতি বলছে বাধ্যবাধকতা নেই; কিন্তু ইরানের রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী নারীদের হিজাব বাধ্যতামূলক। এখানেই স্পষ্ট–পুরুষতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় ইসলামের মূলনীতি অবহেলিত। আসুন দেখি সূরা কাহফের ১৮:২৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা কি বলেছেন: "বলুন, 'সত্য আসে আল...

বিতর্ক কেন এত?

 বিতর্ক কেন এত? ধর্ম নিয়ে এত বাড়াবাড়ি করতে হবে কেন? কে শিয়া, কে সুন্নী, কে মাজহাব এসব এত বিভেদ কেন? স্রষ্টা এক, রাসূল এক, জীবনব্যবস্থা এক, রাষ্ট্রের বিধান যেখানে কুরআন ও তাওহীদ ভিত্তিক হওয়া উচিত এত বৈশ্বিক বিভাজন কেন রাষ্ট্র, সমাজ, সমাজ-আর্থো ব্যবস্থায়? যেখানে ফরজ নিয়ে মাথাব্যথা নেই সুন্নাত পালন নিয়ে এত ফতেহা কেন? যেখানে স্রষ্টা সবকিছুতে ভারসাম্য আনেন সেখানে অযথা বিভাজন কেন? লিঙ্গ বৈষম্য, দাসপ্রথা, হুর প্রাপ্তি, জৈবিকতা নিয়ে এত কাদা ছুড়াছুড়ি কেন? যেখানে ফরজ পালনে মাথা ব্যথা নেই, হুর, পরী, বিয়ে এসব সুন্নত নিয়ে এত মত বিভেদ কেন? একত্ববাদ খোদায় বিশ্বাস করে যারা তাদের এত বিভাজন কেন এসব বিষয়ে? এত রীতি নিয়ে মাথাব্যথা কেন? একজন মুসলিম আরেক মুসলিমকে কাফের বলে কেন? একজন মুসলিম ফরজ ও আরেকজন মুসলিম সুন্নত নিয়ে টানাহেঁচড়া কেন? যার যার কর্ম ফল নিয়ে সে সে কবরে যাবে তাহলে অন্যের বিষয় নিয়ে এত চুলকানি কেন? আদমের প্রয়োজনে হাওয়া সৃষ্টি হল তাহলে রাবেয়া বসরী, ইব্রাহীম ইবনে আদহাম, উয়াইস আল-কারানি তাঁদের মতো সুফি সাধকগণ কেন স্রষ্টাকে বেছে নিলেন, জৈবিকতা ও লিঙ্গ বৈষম্যের বিতর্কের ঊর্ধ্বে গিয়ে? তারা সুন্ন...

আবেগ ও পারিবারিক অশান্তি

  মানে এটাই যে মানুষের আবেগ সময়ভেদে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে বিদ্যুতের মতো পরিবাহী। আবেগ কখনো স্থির নয়। এটি পরিবাহী, গতিশীল, প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয় অ্যাক্সোনাল ও নিউরোট্রান্সমিটার সিগনালের কারণে। পরিস্থিতি, দায়িত্ব ও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। তাই সন্তানদের কখনো মিথ্যা আবেগ না দেখিয়ে বাস্তবতা দেখানো উচিত। বড় ভাই বোনদেরও বোঝা উচিত বিয়ের আগে ও বিয়ের পরে আবেগের ভারসাম্যতা।

পবিত্র কুরআনের সৌন্দর্য

 পবিত্র কুরআনের সৌন্দর্য কুরআন কোনো অন্তর্মিল ছন্দের কবিতা নয়। কুরআনের নির্দিষ্ট কোনো কবিতার ছন্দ নেই, যা কোনো সাধারণ ভাষায় ও ফর্মে লেখা হয়নি। কুরআনের কোনো নির্দিষ্ট ছন্দ নেই। কুরআনের ব্যাকরণ, অন্তর্গত মিল, রিদমিক প্যাটার্ন সবই বৈজ্ঞানিক। কুরআনের টার্মিনোলজি অণু ও পরমাণুর গঠনের চেয়েও বৈচিত্র্যময়। কুরআনের ফোনিম, মরফিম, সিনট্যাক্স সব সায়েন্টিফিক প্যাটার্ন অনুসরণ করে।  কুরআনের নিউমেরোলজি রহস্যময়। কোনো কবির সাধ্য নেই এমন বৈজ্ঞানিক লিঙ্গুইস্টিক প্যাটার্নে কবিতা লেখা। কুরআনের ভাষা সত্যিই বৈজ্ঞানিক। যদি সূরা আল-বাকারার প্রথম তিনটি অক্ষর ব্যাখ্যা করা হয়, তাহলে দেখা যায় আলিফ-লাম-মিম এই তিনটি হরফ এমনভাবে যুক্ত, যার আণবিক গঠন কেমন হবে তা একমাত্র আল্লাহ তায়ালা জানেন। আলিফ যদি একটি ফোনিম হয়, যার প্লেস অফ আর্টিকুলেশন গ্লটাল, এটি ভাওয়েল সাউন্ড। লাম কনসোন্যান্ট সাউন্ড, প্লেস অফ আর্টিকুলেশন এলভেলার, যা দেখতে অনেকটা ওয়েভের মতো। মিম নাসাল সাউন্ড, বাতাস নাক দিয়ে বের হয় যখন এটি আর্টিকিউলেট হয়। আলিফ-লাম-মিমে লাম ও মিম পড়ার সময় তিন ইউনিট সম টানকে তিন আলিফ মাদ্দ বলা হয়। এই দুটি হরফ ল্...