Posts

বিতর্ক কেন এত?

 বিতর্ক কেন এত? ধর্ম নিয়ে এত বাড়াবাড়ি করতে হবে কেন? কে শিয়া, কে সুন্নী, কে মাজহাব এসব এত বিভেদ কেন? স্রষ্টা এক, রাসূল এক, জীবনব্যবস্থা এক, রাষ্ট্রের বিধান যেখানে কুরআন ও তাওহীদ ভিত্তিক হওয়া উচিত এত বৈশ্বিক বিভাজন কেন রাষ্ট্র, সমাজ, সমাজ-আর্থো ব্যবস্থায়? যেখানে ফরজ নিয়ে মাথাব্যথা নেই সুন্নাত পালন নিয়ে এত ফতেহা কেন? যেখানে স্রষ্টা সবকিছুতে ভারসাম্য আনেন সেখানে অযথা বিভাজন কেন? লিঙ্গ বৈষম্য, দাসপ্রথা, হুর প্রাপ্তি, জৈবিকতা নিয়ে এত কাদা ছুড়াছুড়ি কেন? যেখানে ফরজ পালনে মাথা ব্যথা নেই, হুর, পরী, বিয়ে এসব সুন্নত নিয়ে এত মত বিভেদ কেন? একত্ববাদ খোদায় বিশ্বাস করে যারা তাদের এত বিভাজন কেন এসব বিষয়ে? এত রীতি নিয়ে মাথাব্যথা কেন? একজন মুসলিম আরেক মুসলিমকে কাফের বলে কেন? একজন মুসলিম ফরজ ও আরেকজন মুসলিম সুন্নত নিয়ে টানাহেঁচড়া কেন? যার যার কর্ম ফল নিয়ে সে সে কবরে যাবে তাহলে অন্যের বিষয় নিয়ে এত চুলকানি কেন? আদমের প্রয়োজনে হাওয়া সৃষ্টি হল তাহলে রাবেয়া বসরী, ইব্রাহীম ইবনে আদহাম, উয়াইস আল-কারানি তাঁদের মতো সুফি সাধকগণ কেন স্রষ্টাকে বেছে নিলেন, জৈবিকতা ও লিঙ্গ বৈষম্যের বিতর্কের ঊর্ধ্বে গিয়ে? তারা সুন্ন...

আবেগ ও পারিবারিক অশান্তি

  মানে এটাই যে মানুষের আবেগ সময়ভেদে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে বিদ্যুতের মতো পরিবাহী। আবেগ কখনো স্থির নয়। এটি পরিবাহী, গতিশীল, প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয় অ্যাক্সোনাল ও নিউরোট্রান্সমিটার সিগনালের কারণে। পরিস্থিতি, দায়িত্ব ও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। তাই সন্তানদের কখনো মিথ্যা আবেগ না দেখিয়ে বাস্তবতা দেখানো উচিত। বড় ভাই বোনদেরও বোঝা উচিত বিয়ের আগে ও বিয়ের পরে আবেগের ভারসাম্যতা।

পবিত্র কুরআনের সৌন্দর্য

 পবিত্র কুরআনের সৌন্দর্য কুরআন কোনো অন্তর্মিল ছন্দের কবিতা নয়। কুরআনের নির্দিষ্ট কোনো কবিতার ছন্দ নেই, যা কোনো সাধারণ ভাষায় ও ফর্মে লেখা হয়নি। কুরআনের কোনো নির্দিষ্ট ছন্দ নেই। কুরআনের ব্যাকরণ, অন্তর্গত মিল, রিদমিক প্যাটার্ন সবই বৈজ্ঞানিক। কুরআনের টার্মিনোলজি অণু ও পরমাণুর গঠনের চেয়েও বৈচিত্র্যময়। কুরআনের ফোনিম, মরফিম, সিনট্যাক্স সব সায়েন্টিফিক প্যাটার্ন অনুসরণ করে।  কুরআনের নিউমেরোলজি রহস্যময়। কোনো কবির সাধ্য নেই এমন বৈজ্ঞানিক লিঙ্গুইস্টিক প্যাটার্নে কবিতা লেখা। কুরআনের ভাষা সত্যিই বৈজ্ঞানিক। যদি সূরা আল-বাকারার প্রথম তিনটি অক্ষর ব্যাখ্যা করা হয়, তাহলে দেখা যায় আলিফ-লাম-মিম এই তিনটি হরফ এমনভাবে যুক্ত, যার আণবিক গঠন কেমন হবে তা একমাত্র আল্লাহ তায়ালা জানেন। আলিফ যদি একটি ফোনিম হয়, যার প্লেস অফ আর্টিকুলেশন গ্লটাল, এটি ভাওয়েল সাউন্ড। লাম কনসোন্যান্ট সাউন্ড, প্লেস অফ আর্টিকুলেশন এলভেলার, যা দেখতে অনেকটা ওয়েভের মতো। মিম নাসাল সাউন্ড, বাতাস নাক দিয়ে বের হয় যখন এটি আর্টিকিউলেট হয়। আলিফ-লাম-মিমে লাম ও মিম পড়ার সময় তিন ইউনিট সম টানকে তিন আলিফ মাদ্দ বলা হয়। এই দুটি হরফ ল্...

ইসলামিক এসকেটোলজি ও আধুনিক যুদ্ধ: ইসরায়েল ও বিশ্ব রাজনীতি"

 "ইসলামিক এসকেটোলজি ও আধুনিক যুদ্ধ: ইসরায়েল ও বিশ্ব রাজনীতি" পৃথিবীতে যত যুদ্ধই হোক না কেন, তার পেছনের প্রেক্ষাপট ধর্মের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক স্বার্থের নিয়ামক হলো এই ধর্মীয় ভাবনা। খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে মাশিহ জেরুজালেম থেকে আগমন করবেন; অনুরূপভাবে, ইহুদিরা মনে করে তাদের অতীত ঐতিহ্য এবং বিশ্বব্যাপী কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে যখন তাদের মাশিহও জেরুজালেম থেকে আসবেন। বিশের দশকে জায়োনিজম আন্দোলনের মাধ্যমে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৪৫ সালের পর, ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম আরব–ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হয়, যেখানে মিশর, জর্ডান, সিরিয়া এবং ইরাক ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। এর ফলে ফিলিস্তিনে শরণার্থী সংকট সৃষ্টি হয়। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পেছনে সবচেয়ে কাছের বন্ধু ছিল ইংল্যান্ড এবং পরে ফ্রান্স। এই সম্পর্ককে ব্যবহার করে ইসরায়েল দ্বিতীয়বার মিশরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়, যার পরিপ্রেক্ষিতে মিশর সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করে। যদিও তখন মিশর ও ইসরায়েলের স...

"ইসলামী এসকেটোলজি অনুযায়ী বিশ্বকথন"

 "ইসলামী এসকেটোলজি অনুযায়ী বিশ্বকথন" ইসলামী এসকেটোলজিতে বলা হয়েছে, শেষকালে একটি ওয়ান ওয়ার্ল্ড অর্ডার প্রতিষ্ঠিত হবে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তি উদ্ভূত হবে। কিছু সমালোচক মনে করেন, এই শক্তির উৎস ইসরায়েল হতে পারে, এবং তখন বিশ্বব্যবস্থায় ইসরায়েলের একক আধিপত্য থাকবে। এরপর মালহামা বা বিশাল যুদ্ধ সংঘটিত হবে, যা বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত। এই যুদ্ধ প্রধানত মধ্যপ্রাচ্য ও কিছু এশিয়ান দেশে সংঘটিত হবে, বিশেষ করে মিশর, ফিলিস্তিন, লেবানন, সিরিয়া, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল এবং আরবিয়ান পেনিনসুলার দেশসমূহ যেমন সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, ইয়েমেন, এবং সম্ভাব্য অন্যান্য এশিয়ান দেশ। এরপর ইমাম মাহদী আরবিয়ান পেনিনসুলা থেকে আগমন করবেন। তিনি মালহামার ভয়াবহ যুদ্ধে মুসলিমদের নেতৃত্ব দেবেন এবং মুসলিমদের মধ্যে স্থিতিশীলতা ও শান্তি ফিরিয়ে আনবেন। ইসলামী এসকেটোলজি অনুযায়ী, তখন বিশ্বব্যাপী মুসলিম আধিপত্য বিস্তৃত হবে। একই সময়ে দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে। তখন ঈসা নবী পৃথিবীতে আসবেন, এবং ইমাম মাহদী ও ঈসা নবী সম্মিলিতভাবে দাজ্জালকে ...